কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে আগামী কয়েক দিন কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কতা জারি হয়েছে। ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 April 2026 08:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক'দিন ধরেই রাজ্যজুড়ে কালবৈশাখীর (Kalboishakhi) তাণ্ডব দেখছেন মানুষ। সকাল থেকেই আকাশের মুখ গোমড়া, দিনেরবেলা ভ্যাপসা গরম (Kolkata weather update), তাপমাত্রা একটু বেশি থাকলেও দুপুরের পর থেকেই আবহাওয়ায় বদল (west bengal weather update) এবং সন্ধের মুখে বৃষ্টির দাপট দেখছেন রাজ্যবাসী। আজও সারাদিন কিছুটা এমনই যাবে, বলছে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস (weather forecast)।
কলকাতা-সহ (kolkata weather today) দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে আগামী কয়েক দিন কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কতা জারি হয়েছে। ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিশেষ করে হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। এর সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুধু দক্ষিণবঙ্গই নয়, উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তার জেরেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। এই আবহে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ঝাড়গ্রামে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, বাকি জেলাগুলিতে শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে রবিবারের পর দক্ষিণ ও পশ্চিমের কিছু জেলায় ফের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর বাংলাদেশ হয়ে মেঘালয়, দক্ষিণ-পূর্ব অসম পেরিয়ে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার। এছাড়া ছত্তীসগড় ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যা প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে।
এর পাশাপাশি তেলঙ্গানা ও তামিলনাড়ুর উপর থাকা আরেকটি অক্ষরেখার সঙ্গে এই ব্যবস্থার সংযোগ ঘটেছে। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে স্থলভাগে, যার কারণে পশ্চিমবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।