নয়ডায় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পরিকল্পিত শ্রমিক বিক্ষোভে দুই দিন ধরে উত্তেজনা। মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদ হিংসায় রূপ নেয়, ৩০০-র বেশি গ্রেফতার। বহিরাগত ও সম্ভাব্য পাকিস্তানি যোগের তদন্ত চলছে। সরকার অন্তর্বর্তীভাবে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে।
.jpeg.webp)
নয়ডায় শ্রমিক-বিক্ষোভ
শেষ আপডেট: 14 April 2026 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতারাতি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে (WhatsApp Group) ডাকা, আর সকাল হতেই রাস্তায় আগুন- নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভ (Labour Protest) যেন সোশ্যাল মিডিয়ার এক বিস্ফোরক উদাহরণ। মজুরি বাড়ানো নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদ মুহূর্তে রূপ নেয় হিংসায় (Noida Protest), আর তাতেই সামনে এল চমকে দেওয়া তদন্তের তথ্য।
নয়ডায় সোমবার শুরু হওয়া শ্রমিকদের বিক্ষোভ (Noida Labour Protest) দ্বিতীয় দিনে পড়ল। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই বিক্ষোভের বড় অংশই পরিকল্পনা করা হয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের (WhatsApp Group) মাধ্যমে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার গভীর রাতে কিউআর কোডের (QR code) মাধ্যমে বহু শ্রমিককে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। এই গ্রুপগুলোর একটির নাম ছিল ‘Workers' Movement’।
এই গ্রুপগুলিতে উস্কানিমূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা ছড়ানো হয়, যা বিক্ষোভকে আরও তীব্র করে তোলে। শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ হলেও দ্রুত তা হিংসাত্মক রূপ নেয়। প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে পড়েন। নয়ডার ফেজ-২, সেক্টর ৬৩ এবং সেক্টর ৮০ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। বিক্ষোভকারীরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, ভাঙচুর চালায় এবং পাথর ছোড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেয়। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে ৩৫০-র বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও ১০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মূল বিক্ষোভ শেষ হওয়ার পর বাইরে থেকে কিছু লোক এসে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। গৌতম বুদ্ধ নগরের পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং বলেন, এই ‘বহিরাগত’দের মধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের খোঁজ চলছে।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর এই ঘটনার পেছনে বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী গ্রেফতারের ঘটনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানি যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল মজুরির বৃদ্ধি। হরিয়ানা সরকারের মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর উত্তরপ্রদেশেও একই দাবি ওঠে। তবে যোগী আদিত্যনাথ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, মাসিক ২০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি সঠিক নয়। সরকার জানিয়েছে, আপাতত অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত হিসেবে গৌতম বুদ্ধ নগর ও গাজিয়াবাদে অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি ১৩ হাজার ৬৯০ টাকা, অর্ধদক্ষদের ১৫ হাজার ৫৯ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের ১৬ হাজার ৮৬৮ টাকা করা হয়েছে, যা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে।
সরকারের আশ্বাস, শ্রমিকদের সব দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। তবে হিংসা নয়, আলোচনার পথেই সমস্যার সমাধান সম্ভব- এই বার্তাই দিয়েছে প্রশাসন।