ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর নেতৃত্বে ভারতের ৬টি রাজ্যে (দিল্লি, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, কর্নাটক, তামিলনাড়ু এবং তেলেঙ্গানা) এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হয়েছিল । ১৮টি কেন্দ্রে ১২,৭০০-এর বেশি মানুষের ওপর এই তৃতীয় পর্যায়ের (Phase 3) ট্রায়াল চালানো হয়।

শেষ আপডেট: 14 April 2026 21:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যক্ষ্মা বা টিবি (TB) সারা বিশ্বের পাশাপাশি ভারতের জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এক বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘকাল ধরে বিসিজি (BCG) টিকার ওপর ভরসা করা হলেও, নতুন প্রযুক্তির ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন গবেষকরা। সেই লক্ষ্যেই দু’টি নতুন পরীক্ষামূলক প্রতিষেধক নিয়ে বড়সড় পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল বলছে, সার্বিক যক্ষ্মা প্রতিরোধে এই টিকাগুলো যতটা আশা জাগিয়েছিল, সেই প্রত্যাশা পূরণে কিছুটা পিছিয়েই রয়েছে । তবে এরই মাঝে আশার আলোও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
মেগা ট্রায়াল ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR):
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর নেতৃত্বে ভারতের ৬টি রাজ্যে (দিল্লি, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, কর্নাটক, তামিলনাড়ু এবং তেলেঙ্গানা) এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হয়েছিল । ১৮টি কেন্দ্রে ১২,৭০০-এর বেশি মানুষের ওপর এই তৃতীয় পর্যায়ের (Phase 3) ট্রায়াল চালানো হয়। মূলত 'VPM1002' এবং 'Immuvac'—এই দু’টি টিকার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হয়েছিল এই গবেষণায় । গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি বিখ্যাত চিকিৎসা সংক্রান্ত জার্নাল ‘দ্য বিএমজে’ (The BMJ)-তে প্রকাশিত হয়েছে ।
কী বলছে গবেষণার ফলাফল?
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যক্ষ্মা পুরোপুরি আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই টিকাগুলো খুব একটা শক্তিশালী প্রমাণ হয়নি:
আশার আলো যেখানে—এক্সট্রাপালমোনারি টিবি:
সার্বিক ফলাফল কিছুটা হতাশাজনক হলেও, একটি বিশেষ ক্ষেত্রে এই টিকাগুলো দারুণ কাজ করেছে । তা হল— এক্সট্রাপালমোনারি টিবি। যক্ষ্মা যখন ফুসফুস ছাড়িয়ে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন মস্তিষ্ক, হাড় বা লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে, তাকেই এক্সট্রাপালমোনারি টিবি বলা হয় । এটি নির্ণয় করা কঠিন এবং এতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি ।
গবেষণায় দেখা গেছে, 'VPM1002' এবং 'Immuvac' দুই ধরণের টিকাই এক্সট্রাপালমোনারি টিবি প্রতিরোধে ৫০% থেকে ৬০%-এর বেশি কার্যকারিতা দেখিয়েছে ।
ল্যাটেন্ট টিবি বা সুপ্ত সংক্রমণে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষার হার ছিল ৬৫%-এরও বেশি ।
শিশুদের জন্য সুখবর:
গবেষণার তথ্যে উঠে এসেছে যে, কম বয়সিদের ক্ষেত্রে এই টিকাগুলো বেশি কার্যকরী । বিশেষ করে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে ৬০%-এর বেশি সুরক্ষা দেখা গিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের নিরিখে অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত ।
সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা:
বিশেষজ্ঞরা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকে আঙুল তুলেছেন। ট্রায়ালের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, অপুষ্টি এবং ডায়াবেটিসের মতো কো-মর্বিডিটি (Co-morbidity) থাকা রোগীদের ওপর টিকার প্রভাব প্রত্যাশার চেয়ে কম । এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় টিবি শনাক্তকরণ এবং পরীক্ষার সুযোগ কম থাকাও একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে ।
যদিও এই টিকাগুলো সার্বিকভাবে টিবি নির্মূল করার জাদুকরী সমাধান হতে পারেনি, তবুও সিভিয়ার বা জটিল ধরণের যক্ষ্মা (এক্সট্রাপালমোনারি) প্রতিরোধে এদের সাফল্যকে খাটো করে দেখছেন না বিজ্ঞানীরা । চিকিৎসকদের পরামর্শ, টিবি নির্মূল করতে শুধু টিকার ওপর ভরসা না করে পুষ্টিকর খাবার এবং সময়মতো রোগ শনাক্তকরণের ওপর জোর দেওয়া জরুরি।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.