ইগো সরিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রার্থী, সাংসদ, ফ্রন্টাল ইউনিটের প্রধান, মুখপাত্র থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ সদস্য ও কাউন্সিলাররা।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 14 April 2026 20:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম দফার ভোট আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকদিন (West Bengal Assembly Election 2026)। তার আগে দলের নেতাদের কোমর বাঁধতে ময়দানে নামার নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবারের সভা থেকে একদিকে যেমন দলীয় কর্মীদের একজোট হওয়ার বার্তা দিলেন, তেমনই হুঙ্কার ছাড়লেন গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিজেপি কোটি কোটি টাকা খরচ করে হাওয়া তোলার চেষ্টা করলেও লাভ হবে না; কারণ বাংলার মাটি তৃণমূলেরই সঙ্গে আছে।
ইগো সরিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রার্থী, সাংসদ, ফ্রন্টাল ইউনিটের প্রধান, মুখপাত্র থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ সদস্য ও কাউন্সিলাররা। প্রায় ৩০ হাজার দলীয় কর্মীর উপস্থিতিতে অভিষেক কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “বিভেদ ভুলে যাওয়ার সময় এসেছে। আগামী ১৫ দিন সব ইগো দূরে সরিয়ে একজোট হয়ে লড়াই করুন।” দলের অন্দরে যে কারোরই ফাঁকি বরদাস্ত করা হবে না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়েছেন, কোন বিধানসভা কেন্দ্রে কারা কেমন কাজ করছেন, তার ওপর কড়া নজর রাখছে দল।
কমিশনকে তোপ দেগে বিজেপির বর্ধিত শাখা বলেন তিনি। এদিন কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও নির্বাচন কমিশনকেও একহাত নেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে বিজেপির একটি ‘বর্ধিত শাখা’ হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল ঠিকমতো কাজ না করা নিয়েও সরব হন তিনি। তিনি বলেন, “বিজেপি এজেন্সি দিয়ে ভোট করাতে চাইছে, কিন্তু মানুষ ঠিক করে নিয়েছেন কী করতে হবে।”
২৭ লক্ষ বনাম ১ কোটির লড়াই বলেন তিনি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন অভিষেক পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। তিনি বলেন, “২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এই ভেবে যে তারা সবাই তৃণমূলের ভোটার।" তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, "চ্যালেঞ্জ করছি আমাদের ভোট শতাংশ আরও বাড়বে। এমনকি যদি ১ কোটি নামও বাদ দেওয়া হয়, তাহলেও তৃণমূলই ক্ষমতায় ফিরবে।”
ভাঙবে ২০২১-এর রেকর্ড এমনই দাবি অভিষেকের। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নানা সমীক্ষার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক দাবি করেন, বিজেপি বুঝে গিয়েছে বাংলায় তাদের হার নিশ্চিত। ২০২১ সালেও ঠিক একই ছবি দেখা গিয়েছিল। তাঁর কথায়, “আমি অন রেকর্ড বলছি, এবার তৃণমূলের ভোট শতাংশ আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেবে। ২০২১-এর সাফল্যকেও ছাপিয়ে যাবে তৃণমূল।”
ভোটের প্রচারের শেষ ৭ দিনে তৃণমূল যে অল-আউট আক্রমণে যাচ্ছে, এদিনের বৈঠক থেকে সেই সুরই বেঁধে দিলেন সেনাপতি।