ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, ঘটনার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলছিলেন হাসনের প্রার্থী তথা বর্তমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এবং বিকাশ রায়চৌধুরীর সঙ্গে। কথা বলতে বলতেই তিনি মঞ্চের অন্য প্রান্তে থাকা অনুব্রতকে নিজের কাছে ডেকে নেন।

মঞ্চে অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 14 April 2026 11:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের ‘কেষ্ট’ বিতর্ক। সোমবার সিউড়ির সভা যে দৃশ্যের সাক্ষী থাকল, তা তৃণমূলের অন্দরমহলে বড়সড় অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। সিউড়ির প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সামনেই কার্যত মেজাজ হারান অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)!
নেত্রীর কথা শেষ হওয়ার আগেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ করে মুখ ঘুরিয়ে চলে যেতে দেখা যায় তাঁকে। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠছে - তবে কি ‘বীরভূমের বাঘ’ এবার খোদ দলনেত্রীর ওপরই রুষ্ট?
ঠিক কী হয়েছিল সিউড়ির মঞ্চে?
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, ঘটনার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলছিলেন হাসনের প্রার্থী তথা বর্তমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এবং বিকাশ রায়চৌধুরীর সঙ্গে। কথা বলতে বলতেই তিনি মঞ্চের অন্য প্রান্তে থাকা অনুব্রতকে নিজের কাছে ডেকে নেন। মমতা যখন দু’জনের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখনই অনুব্রতকে দেখা যায় হাত নেড়ে কিছু একটা বলে নেত্রীর কথা কার্যত অগ্রাহ্য করেই সরে যেতে। অনুব্রতর শরীরের ভাষা এবং মুখভঙ্গি দেখে এটা স্পষ্ট যে, তিনি কোনও একটি বিষয়ে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।
দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়েই কি বিপত্তি?
কাজল শেখ এবং অনুব্রত মণ্ডলের মধ্যের ‘ঠান্ডা লড়াই’ এখন আর গোপন কিছু নয়। সূত্রের খবর, বীরভূমে দলের অস্বস্তি রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চেই দুই নেতাকে বেশ কিছু পরামর্শ দিচ্ছিলেন। ভোটের ময়দানে সমন্বয় রক্ষা এবং দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে কিছু নির্দেশ দেন নেত্রী। সূত্রের দাবি, কাজলের সঙ্গে ক্ষমতা বা দায়িত্ব ভাগাভাগির এই প্রস্তাবটিই সম্ভবত মানতে পারেননি অনুব্রত। আর সেই ‘গোঁসা’ থেকেই নেত্রীর মুখের ওপর ওভাবে হাত নেড়ে সরে যান তিনি।
কেষ্ট বনাম কাজল: ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদল?
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে বীরভূমে অনুব্রতর কথা ছিল শেষ কথা। কিন্তু গরু পাচার মামলায় জেলযাত্রার পরই চিত্রনাট্য বদলাতে শুরু করে। কেষ্টর অনুপস্থিতিতে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে উত্থান ঘটে কাজল শেখের। বীরভূমের রাজনীতিতে ফাইজুল হক ওরফে কাজল বরাবরই অনুব্রতর বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অনুব্রত জেল থেকে ফেরার পর দল তাঁকে জেলা সভাপতির পদে ফেরায়নি, বদলে কোর কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
অনুব্রত ফেরার পর থেকেই কাজল শেখের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব সর্বজনবিদিত। এমনকি সংবাদমাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন দুই নেতাই। সোমবার মমতার সামনে অনুব্রতর এই প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে দিল যে, দূরত্ব মোটেও কমেনি। বরং ভোটের মুখে তা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
ছাব্বিশের ভোটের আগে বীরভূমের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার রুষ্ট হওয়া তৃণমূলের জন্য কতটা বিপদের? কাজল ও অনুব্রতর এই ইগোর লড়াই কি ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তার পরও কি বীরভূমের ঘরোয়া বিবাদ মিটবে? সিউড়ির সভার পর এই প্রশ্নগুলিই এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ঘাসফুল শিবিরকে।