সিউড়ির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্কল্প, "ছাড়ব না এদের"। স্ক্রুটিনি নিয়ে তাঁর বিরক্তি গোপন করেননি মমতা। প্রকাশ্য সভা থেকেই পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি ছেড়ে দেব এদের? আপনারা ছাড়লেও আমি ছাড়ব না এদের।’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 13 April 2026 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) যত গড়াচ্ছে, প্রচারের ঝাঁজ তত বাড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার বীরভূমের (Birbhum) সিউড়ির (Suri) সভা থেকে ফের একে একে বিরোধীদের বিঁধলেন তৃণমূল (TMC) নেত্রী। কিন্তু এদিন তাঁর বক্তৃতার এক বড় অংশ জুড়ে থাকল মনোনয়ন পর্বের অভিজ্ঞতার কথা। নিজের মনোনয়নের স্ক্রুটিনির প্রসঙ্গ টেনে কার্যত হুঙ্কার ছাড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
বিজেপিকে (BJP) আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন তাঁর মনোনয়ন বাতিলের চেষ্টা করেছে বিজেপি। এদিন নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁর মনোনয়ন নিয়ে অকারণ টানাহ্যাঁচড়া করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার মনোনয়ন নিয়ে ৪ ঘণ্টা স্ক্রুটিনিতে আমাকে জ্বালিয়েছে।’’ এর আগেই তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর মনোনয়ন বাতিল করার জন্যই ভবানীপুরে তাঁর বিরুদ্ধে পালটা হলফনামা জমা করা হয়েছিল।
সিউড়ির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্কল্প, "ছাড়ব না এদের"। স্ক্রুটিনি নিয়ে তাঁর বিরক্তি গোপন করেননি মমতা। প্রকাশ্য সভা থেকেই পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি ছেড়ে দেব এদের? আপনারা ছাড়লেও আমি ছাড়ব না এদের।’’ অর্থাৎ মনোনয়ন পর্বে তাঁকে যারা ‘জ্বালিয়েছে’, ভোট মিটলে তাদের বিরুদ্ধে যে কড়া ব্যবস্থা বা রাজনৈতিক লড়াই জারি থাকবে, সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
কেশিয়াড়িতে ভোট প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমাকে শুধু বিজেপি-র সঙ্গে নয় বিজেপি-র ভ্যানিশ, ফিনিশ ওয়াশিং মেশিনের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।" তাঁর মনোনয়ন বাতিলের চেষ্টার অভিযোগ তিলে তিনি বলেন, "আমার কেন্দ্র ভবানীপুরে ওই গদ্দারের দল আমার নামে দুটো মিথ্যে হলফনামা জমা করে আমার মনোনয়ন বাতিল করার চেষ্টা করেছিল। পারেনি শেষ পর্যন্ত।"
তপ্ত আবহে নির্বাচনের প্রচারে নয়া মাত্রা যোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, এর আগে গোটা এপ্রিল মাসজুড়ে বিভিন্ন নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে সরব হতে দেখা গিয়েছিল মমতাকে। কিন্তু এদিন নিজের মনোনয়ন নিয়ে তাঁর এই ক্ষোভপ্রকাশ নতুন মাত্রা যোগ করল বাংলার ভোট-রাজনীতিতে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় সংস্থা বা কমিশন—কাউকেই যে তিনি এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নন, এই মন্তব্য তারই বহিঃপ্রকাশ। এখন দেখার মমতার এই ‘ছেড়ে না দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।