কালিয়াচক কাণ্ডের তদন্তে নেমে এ দিন মোথাবাড়ির কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবুকেও তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সায়েমকে মুক্তি দিলেও তাঁর ফোনটি আপাতত বাজেয়াপ্ত বা ‘সিজ’ করেছে এনআইএ।

কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরী
শেষ আপডেট: 13 April 2026 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের কালিয়াচকে (Maldah Kaliachak Incident) বিডিও অফিসের মধ্যে বিচারকদের আটকে রাখা এবং তাঁদের গাড়িতে হামলার ঘটনায় তদন্তের জালে এবার বিরোধী শিবির। সোমবার এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। ধৃতদের নাম শাহাদত হোসেন এবং আসিফ শেখ। এলাকায় তাঁরা সক্রিয় কংগ্রেস নেতা হিসেবেই পরিচিত। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে মালদহের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটা চড়ে গিয়েছে।
কালিয়াচক কাণ্ডের তদন্তে নেমে এ দিন মোথাবাড়ির কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরী (Congress Candidate Sayem Chowdhury) ওরফে বাবুকেও তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সায়েমকে মুক্তি দিলেও তাঁর ফোনটি আপাতত বাজেয়াপ্ত বা ‘সিজ’ করেছে এনআইএ। ছাড়া পেয়েই এ দিন সকালে ভোট প্রচারে বেরিয়ে পড়েন কংগ্রেস প্রার্থী। সেখান থেকেই তিনি অভিযোগ তোলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁকে সারাদিন আটকে রাখা এবং ফোন কেড়ে নেওয়া আসলে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্ত।
উল্লেখ্য, কালিয়াচকের বিডিও অফিসের ভেতরে সাত বিচারককে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে আটকে রাখার ঘটনায় এর আগেও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে এনআইএ। প্রথম গ্রেফতারি হিসেবে জালে তোলা হয়েছিল গোলাম রব্বানি নামের এক ব্যক্তিকে, যিনি একজন পঞ্চায়েত সদস্য। সেই সূত্র ধরেই এ দিনের অভিযানে শাহাদত ও আসিফকে ধরা হয়। অভিযোগ, বিচারকরা যখন পুলিশি পাহারায় বেরচ্ছিলেন, তখন তাঁদের গাড়িতে ভাঙচুর এবং শারীরিক নিগ্রহের ঘটনায় এই ধৃতরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন।
এনআইএ সূত্রে খবর, মোথাবাড়িতে ওইদিন উত্তেজনার আড়ালে একটি সুপরিকল্পিত চক্র কাজ করছিল। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ধৃতদের মধ্যে একজন স্থানীয় স্তরে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রে আর কারা জড়িত রয়েছে, সেই তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। বিশেষ করে বিচারকদের ওপর হামলার নেপথ্যে কোনো বড় মাথার ইন্ধন ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক নিগ্রহের মতো স্পর্শকাতর মামলায় কংগ্রেস নেতাদের গ্রেফতারি এবং প্রার্থীর ফোন বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা মোথাবাড়ি কেন্দ্রে নয়া মাত্রা যোগ করল। একদিকে যখন সায়েম চৌধুরী একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে প্রচার করছেন, তখন অন্য দিকে তদন্তকারী সংস্থার এই সক্রিয়তা মালদহের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এই ঘটনায় যুক্ত অন্যান্যদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও জারি রেখেছে এনআইএ।