বিজনেস ক্লাসের আটটি টিকিটের জন্য খরচ হয়েছিল ৪৯ লক্ষ টাকা, অথচ বিমানবন্দরে পৌঁছেও পেরু যাওয়া হল না! ভিসা সংক্রান্ত ভুলের দোহাই দিয়ে বিমান সংস্থা বোর্ডিং বাতিল করায় এবার কড়া অবস্থান আদালতের।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 April 2026 09:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বপ্নের বিদেশ সফর শুরুই হল না, উল্টে আদালত পর্যন্ত গড়াল ঘটনা। বিমানবন্দরে শেষ মুহূর্তে বোর্ডিং বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে এবার আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিল কর্নাটকের একটি আদালত।
অভিযোগকারী তামিলনাড়ুর সেলেমের এক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জে এস সতীশকুমার। তাঁর দাবি, বহুদিনের পরিকল্পনা করা পরিবার-সহ পেরু সফর ভেস্তে যায় বিমান সংস্থার ভুল সিদ্ধান্তে। এই ঘটনায় সংস্থার শীর্ষ কর্তা—সিইও ও সিওও-সহ একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন দেবনাহল্লির সিভিল জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, যার অধীনে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দর পড়ে।
ঘটনাটি ১৯ জুন, ২০২৪-এর। ওই দিন সতীশকুমার ও তাঁর পরিবারের আরও সাত জন সদস্য বেঙ্গালুরু থেকে পেরু যাওয়ার কথা ছিল। আটটি বিজনেস ক্লাস টিকিটের জন্য খরচ হয়েছিল প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকা। টিকিট ছিল নন-রিফান্ডেবল, ফেরার তারিখ নির্ধারিত ছিল ৩ জুলাই।
অভিযোগ, যথেষ্ট সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পরও দীর্ঘক্ষণ চেক-ইন কাউন্টারে অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। সব প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, উড়ানের ঠিক আগে জানানো হয়—তাঁরা বিমানে উঠতে পারবেন না। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, পেরুর ভিসা নেই।
তবে এই দাবি মানতে নারাজ সতীশকুমার। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া বা শেঙ্গেন এলাকার বৈধ ভিসা বা বসবাসের অনুমতি থাকে, তা হলে আলাদা করে পেরুর ভিসা প্রয়োজন হয় না। বিমান সংস্থা এই নিয়ম সঠিকভাবে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।
এতেই শেষ নয়। পরিবারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পর তাঁদের ‘রেড-ফ্ল্যাগ’ করা হয়। ফলে পরে বিদেশ সফরে গিয়েও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। সতীশকুমারের ছেলে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আটক হন, তাঁকে জেরা করা হয় এমন এক ‘ডিপোর্টেশন’ নিয়ে, যা কখনও ঘটেনি। একই অভিজ্ঞতা হয়েছে সতীশকুমারের নিজস্ব সফরেও।
যদিও বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণে প্রযোজ্য সব নিয়ম মেনে চলাই তাদের দায়িত্ব। যাত্রীদেরও সঠিক নথিপত্র থাকা জরুরি। তবে এই ঘটনায় হওয়া অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে সংস্থা।
টাকা ফেরত এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সতীশকুমারের কথায়, বিষয়টা ক্ষতিপূরণের নয়, দায়বদ্ধতার। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য—“এভাবে হলে যে কারও সঙ্গেই হতে পারে।”