মার্কিন নৌ অবরোধে হরমুজ প্রণালীতে আটকে ইরানের তেল রফতানি, দিনে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির আশঙ্কা; বিকল্প পথ খুঁজছে তেহরান, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ।

হরমুজ অবরোধ নৌ সেনার
শেষ আপডেট: 14 April 2026 09:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা (Middle East Tension) নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের (Iran US conflicts) অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে এবার হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ শুরু করেছে। ফলে ইরানের বন্দর থেকে যাওয়া বা বন্দরগামী সব জাহাজই এখন প্রায় থমকে গেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে শুধু ইরান নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানী বাজারও।
দিনে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি!
আমেরিকার এই অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে (Iran's Economics) ভয়াবহভাবে চাপে ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের হিসেবে, প্রতিদিন ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। এর মধ্যে শুধু রফতানি খাতের ক্ষতিই প্রায় ২৭৬ মিলিয়ন ডলার, যা প্রধানত অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল থেকে আসে।
এই হিসাব দিয়েছেন গবেষণা সংস্থা Foundation for Defense of Democracies-এর বিশ্লেষক মিয়াদ মালেকি। তিনি বলেন, যুদ্ধে ইরান দৈনিক প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানি করত, ব্যারেলপ্রতি দাম ছিল প্রায় ৮৭ ডলার। আর সেই রফতানির ৯০ শতাংশই হতো খারগ দ্বীপ থেকে- যা গত মাসে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্য পথে রফতানির চেষ্টা, কিন্তু সীমাবদ্ধতা আছে
ইরান চাইলে জাস্ক টার্মিনাল হয়ে কিছু রফতানি করতে পারে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। নৌ অবরোধের কড়াকড়ি কতটা কঠোর হবে এবং ইরান আদৌ বিকল্প পথ খুঁজে পাবে কি না, তা নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা। তবে স্বল্পমেয়াদে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে যেতে পারে, কারণ ইরানের হাতে ইতিমধ্যেই জাহাজে ভাসমান ১৫৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর শক্তি-প্রদর্শন
নৌ অবরোধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ১৫টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এর সঙ্গে আছে অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ USS Tripoli (LHA-7), যা F-35B Lightning II স্টেলথ ফাইটার এবং MV-22 Osprey পরিচালনা করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, অবরোধ শুরু হয়েছে ১৪০০ GMT থেকে।
অবরোধের নিয়ম অনুযায়ী,
বিশ্ববাজারে প্রভাব?
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশর বেশি পরিবহন হয়। ফলে ইরান না হলেও, আন্তর্জাতিক তেলবাজারে দাম বাড়ার ঝুঁকি প্রবল।
ইরান কী করবে?
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। ইরান বিকল্প পথে রফতানির চেষ্টা করলেও সেটা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।