পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনার (Iran US Peace Talks) পর মুহূর্তেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) যে ফোন করেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে (Benjamin Netanyahu), সেই কথোপকথন ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
_0.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 April 2026 08:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক (Iran US Peace Talks) শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। ইরানের (Iran) অভিযোগ ছিল আলোচনা চলাকালীন নেতানিয়াহুকে (Benjamin Netanyahu) ফোন করা হয়েছিল। মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে বেশকিছুক্ষণের তাঁর কথোপকথনের পরই সমঝোতা না করে খালি হাতে ফিরতে হয় দুই পক্ষকেই। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার (Middle East tension) আবহে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সেই গুরুত্বপূর্ণ ফোনকল।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনার (Iran US Peace Talks) পর মুহূর্তেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) যে ফোন করেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে (Benjamin Netanyahu), সেই কথোপকথন ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক টানাপড়েন। কেন শেষ মুহূর্তে ভেঙে গেল আলোচনা- এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই দুই দেশ একে অপরকে দোষারোপ করছে।
ইজরায়েলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইসলামাবাদ ছাড়ার ঠিক পরেই বিমানে বসে আত্মীয়তার মতো বিস্তারিতভাবে তাঁকে সব জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স। তাঁর কথায়, আলোচনার 'বিস্ফোরণ' ঘটে মূলত আমেরিকার তরফে, কারণ ইরান আলোচনায় যোগ দেওয়ার শর্ত মানেনি। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের উচিত ছিল অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। কিন্তু তেহরান তা করেনি বলে দাবি তেল আভিভের।
নেতানিয়াহু আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রধান উদ্বেগ ছিল ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা। তাঁর কথায়, “ওদের লক্ষ্য স্পষ্ট, আর কোনও অবস্থাতেই ইরানের মাটিতে আগামী বহু বছর পারমাণবিক শক্তি ফেরালে চলবে না।”
ইরানের শর্তভঙ্গের কারণেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের মধ্যে কখনও এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখা যায়নি।
এদিকে, একই ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সঈদ আব্বাস আরাগাছি (Seyed Abbas Araghchi) সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, আলোচনার মাঝে নেতানিয়াহু ও ভ্যান্সের ফোনালাপ সেই বৈঠকের মূল লক্ষ্যকে আমেরিকা-ইরান ইস্যু থেকে সরিয়ে ইজরায়েলের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। তাঁর অভিযোগ, “যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করতে পারেনি আমেরিকা, তা আলোচনার টেবিলে করতে চাইছিল।”
ইরান জানায়, তারা সৎভাবেই পাকিস্তান-আয়োজিত বৈঠকে অংশ নিয়েছিল এবং ভ্যান্সের যাওয়ার আগে দেওয়া প্রেস কনফারেন্স ছিল 'অনাবশ্যক' ও 'বিভ্রান্তিকর'।
অন্যদিকে, লেবাননের দক্ষিণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কেও মন্ত্রিসভাকে আপডেট দেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইজরায়েলি বাহিনী সেখানে শত্রুপক্ষকে সীমান্ত থেকে আরও দূরে ঠেলে শক্ত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইজরায়েলের বয়ানের পার্থক্য স্পষ্ট করেছে- ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠক ভেঙে যাওয়া শুধু কূটনৈতিক ব্যর্থতা নয়, বরং ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের বার্তাও বয়ে আনতে পারে।