ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরান তেলকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে এবং বিশ্বকে "ব্ল্যাকমেল" করছে।

মার্কিন সেনার হরমুজ অবরোধ
শেষ আপডেট: 14 April 2026 07:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা (Middle East Tension) আবার চরমে- বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) নতুন করে সামরিক সংঘর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েছে। ইসলামাবাদে সপ্তাহান্তে ভেঙে যাওয়া শান্তি-আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎই ইরানের (Iran US Conflicts) সামুদ্রিক রুট অবরোধে নেমে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রপথে রফতানি হওয়া তেলের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে।
হরমুজে মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া নজরদারি
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৫টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে ইরানি বন্দরগুলোতে যাতায়াত করা জাহাজগুলোর ওপর সম্পূর্ণ অবরোধ কার্যকর করেছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের উপকূলের খুব কাছে না গিয়ে প্রণালীর দুই পাশে কৌশলগত জায়গায় অবস্থান নিয়েছে, যাতে সরাসরি হামলার ঝুঁকি কম থাকে।
যে কোনও সন্দেহজনক জাহাজকে মাঝ সাগরেই থামিয়ে তল্লাশি করা হবে। সহযোগিতা না করলে মেরিন বা নৌসেনার টিম জাহাজে ওঠার জন্য প্রস্তুত। বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার ও অ্যাম্ফিবিয়াস শিপ থেকে উড়ন্ত হেলিকপ্টার এই অভিযানকে সহায়তা করছে।
নজরদারি আরও কঠোর
মার্কিন বাহিনী উন্নত স্যাটেলাইট নজরদারি, ওপেন-সোর্স ট্র্যাকিং ডেটা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করছে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ঘাঁটি থেকেও কমান্ডো দল পাঠানো সম্ভব। যদিও আমেরিকার সামরিক শক্তি অপরিসীম, তারপরও এমন অবরোধ কার্যকর রাখা অত্যন্ত কঠিন। জাহাজ আটকালে তা চালানোর জন্য নাবিক, নিরাপদে রাখার জায়গা- সবই মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে পড়ে। ফলে পুরো অভিযানটি বিশাল রসদের ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে, ইরান-সংযুক্ত জাহাজ বা ইরানি পতাকা-বাহী জাহাজগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করতে পারে। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের দ্রুতগতির নৌকা, ড্রোন বা মাইন যেকোনো সময় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। হরমুজ প্রণালীর সংকীর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান মার্কিন নৌবাহিনীকে সবসময় ঝুঁকির মুখে রাখে।
ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত এখন কেন?
ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরান তেলকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে এবং বিশ্বকে "ব্ল্যাকমেল" করছে। তাই তার মতে, ইরানের অর্থনৈতিক শিরা–উপশিরায় চাপ তৈরি করতেই এই অবরোধ প্রয়োজন। এই সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ছবি বদলে যেতে পারে। তেলের দাম, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা- সব কিছুর ওপরই এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।