ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ! সোমবার থেকে ইরানের সমস্ত বন্দর ঘিরে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি সাফ জানালেন, আলোচনা ফের হোক বা না হোক, কিছু এসে যায় না আমেরিকার।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 13 April 2026 10:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুস্থ আলোচনা হল না, মিলল না রফা সূত্রও। ফলে আরও তলানিতে মার্কিন-ইরান সম্পর্ক। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কড়া বার্তা দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাফ জানালেন, ইরান ফের আলোচনায় বসতে আগ্রহী হোক বা না হোক, তাতে তাঁর কিছু এসে যায় না। আপাতত পূর্ব ঘোষণা মতো ইরানের সব বন্দর ঘিরে নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
রবিবার মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওরা আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, আমার কিছু যায় আসে না। না ফিরলেও আমি ঠিক আছি।” ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও কোনও সমাধান না মেলায় এই অবস্থান নিয়েছে আমেরিকা।
ট্রাম্পের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সামরিক শক্তি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির ক্ষমতা প্রায় ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। বলেন, “ওরা কথা দিয়েছিল প্রণালী খুলে দেবে। কিন্তু তা করেনি। আমাদের সঙ্গে বেইমানি করেছে।”
এই পরিস্থিতিতে সোমবার থেকেই ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কূটনীতিকদের মতে, এমন চলতে থাকলে গ্যাস ও তেলের দাম যে কোথায় পৌঁছবে, তা কেউ জানে না।
শুক্রবার ইসলামাবাদের আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন জেডি ভ্যান্স। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার পক্ষ থেকে সবচেয়ে ভাল ও সবকিছু বিবেচনা করে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি ইরান। একমতে পৌঁছানো যায়নি। বিশেষ করে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এই নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল, যার সদুত্তর আসেনি প্রতিনিধি দলের তরফে।
অন্যদিকে, ইরান এই অচলাবস্থার জন্য দায় চাপিয়েছে আমেরিকার উপর। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তাই ইচ্ছে থাকলেও কোনওভাবেই সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতিমধ্যেই সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। তার উপর এই নতুন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। সমস্যায় পড়তে পারে একাধিক দেশ। তাই সকলের দাবি, দ্রুত সমস্যা মিটে যাক।