এক হাতে অ্যাপল ওয়াচ, অন্যটিতে ওউরা রিং আর হুপ! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ছবি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চর্চা। কেন একসঙ্গে তিনটি ফিটনেস ট্র্যাকার ব্যবহার করছেন তিনি?

তিনটি ডিভাইস একসঙ্গে কেন পরেন মুখ্যমন্ত্রী?
শেষ আপডেট: 14 April 2026 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক হাতে তিন-তিনটে ফিটনেস ট্র্যাকার! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ছবি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার ঝড়। সাদা শাড়িতে একটি শিশুকে কোলে নিয়ে থাকা সেই ছবিতে তাঁর হাতে একসঙ্গে তিনটি ডিভাইস—এই অস্বাভাবিক দৃশ্যই নজর কাড়ে নেটিজেনদের।
ঘটনাটি সামনে আনেন প্রযুক্তি ও ফিটনেস কোচ অভিষেক সিংহল। তিনি জানান, ছবিতে মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে ‘হুপ’,‘অ্যাপল ওয়াচ’ এবং ‘ওউরা রিং’ ব্যবহার করছেন। এনিয়ে অনধিক চর্চা ও মিম তৈরি হলেও নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ফিটনেস কোচ ব্যাখ্যা করেন, এই তিনটি ডিভাইস আলাদা আলাদা কাজের জন্যই ব্যবহার করা হয়—একটি অন্যটির বিকল্প নয়।
অ্যাপল ওয়াচ
মূলত শরীরচর্চার সময় ব্যবহারে বেশি কার্যকর। হার্ট রেট, ক্যালোরি খরচ, ভিওটু ম্যাক্স, জিপিএস—এই সব মেট্রিক্স ট্র্যাক করতে এটি বিশেষভাবে উপযোগী। তবে ঘুম বা শরীরের পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে এটি তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে, বলছেন সিংহল। তিনি নিজেও নিয়মিত না পরে, নির্দিষ্ট সময়ে এটি ব্যবহার করেন।
ওউরা রিং
অন্যদিকে, ওউরা রিং জোর দেয় ঘুম ও শরীরের ভেতরের সূক্ষ্ম পরিবর্তনের উপর। ঘুমের বিভিন্ন স্তর, হার্ট রেট ভেরিয়েবিলিটি, শরীরের তাপমাত্রা, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা—এসবই এই আংটির মাধ্যমে নির্ভুলভাবে মাপা যায়। এমনকি ‘রেডিনেস স্কোর’ দিয়ে প্রতিদিন শরীরের অবস্থাও বোঝায় এটি।
হুপ
তৃতীয় ডিভাইস ‘হুপ’ আবার পুরোপুরি আলাদা ধরনের কাজ করে। এটি ‘স্ট্রেন-রিকভারি’ চক্রের ওপর জোর দেয়। প্রতিদিন সকালে একটি ‘রিকভারি স্কোর’ দিয়ে জানায় শরীর কতটা প্রস্তুত। সেই অনুযায়ী শরীরচর্চার মাত্রা ঠিক করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ঘুমের ঘাটতি বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের প্রভাবও বিশ্লেষণ করে।
সিংহলের কথায়, তিনটি ডিভাইস একসঙ্গে ব্যবহার করা অস্বাভাবিক নয়, তবে সবার জন্য প্রয়োজনও নয়। যাঁরা তথ্যভিত্তিক ফিটনেসে গভীরভাবে যুক্ত, তাঁদের জন্য এই ধরনের সেটআপ উপকারী হতে পারে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি ডিভাইসই যথেষ্ট—ঘুম, ব্যায়াম বা সার্বিক স্বাস্থ্য, যে কোনও একটি লক্ষ্য ধরে।
সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর ছবিকে ঘিরে শুরু হওয়া এই আলোচনা এখন প্রযুক্তি নির্ভর স্বাস্থ্য সচেতনতার দিকেই নতুন করে নজর টানছে।