সিন্ধু মজার ছলে লিখেছেন, "সুস্থ থাকতে হলে যে মোটা টাকার জিম সাবস্ক্রিপশন, সাপ্লিমেন্ট বা ট্রেন্ডি ওয়েলনেস রুটিনের খুব দরকার পড়ে না, তাঁর জীবন্ত উদাহরণ আমার দাদু।"

৯৫ ছোঁয়া বৃদ্ধর ভাইরাল রুটিন
শেষ আপডেট: 19 February 2026 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল ফিট থাকার জন্য কতজনেই কত কিছু না করেন! শরীর ঠিক রাখতে পছন্দের খাবার বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু এসবের ঊর্ধ্বে গিয়ে সবথেকে যেটা প্রয়োজন তা হল 'নিয়মানুবর্তিতা এবং মানসিক শান্তি', তা বুঝিয়ে দিলেন ৯৫ বছরের এক বৃদ্ধ (95-year-old daily routine)। জিম, প্রোটিন পাউডার বা ট্রেন্ডি ওয়েলনেস রুটিন (Trendy Wellness Routine) নেই। আছে শুধু শৃঙ্খলা, প্রতিদিন হাসি-খুশি মেজাজেই কাটাতে ভালবাসেন।
সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সিন্ধু ইনস্টাগ্রামে তাঁর দাদুকে উদ্দেশ্য করে একটি '‘অ্যাপ্রিসিয়েশন পোস্ট’ (appreciation post) শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তাঁর দাদু ডা: বিশ্বনাথনের দৈনন্দিন রুটিন। ৯৫ বছর বয়সেও যেভাবে নিজের নিয়ম মেনে চলছেন, তা ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়োচ্ছে নেটিজেনদের।

সিন্ধু লিখেছেন, ভোর ৫.৩০টায় শরীর চর্চা ( morning yoga) দিয়ে দিন শুরু করেন তাঁর দাদু। এরপর পুজো সেরে নেন। বহু বছর মাদুরাইতে অ্যানাস্থেটিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। অবসর নেওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় দু'দশক। তাও এখনও প্রতিদিন তিনি চিকিৎসা-বিজ্ঞানের নানা বই পড়েন, নোট করে রাখেন। ফাঁকা সময়কে কাজে লাগিয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার করাও রপ্ত করেছেন।
এখন প্রায়ই বাজার করতে বেরোন। আবার অল্প অল্প রান্নাও (cooking small meals) করছেন। কয়েকদিন আগেই 'মিনি ইডলি' বানিয়েছিলেন, অল্পদিনে শিখে ফেলা এই রেসিপি নিয়ে তাঁর উৎসাহ ছিল দেখার মতো। কোনও অ্যাপ ব্যবহার না করেই টুকটাক অনেক কাজ শিখে ফেলেছেন তিনি।
এই পোস্টেই সিন্ধু মজার ছলে লিখেছেন, "সুস্থ থাকতে হলে যে মোটা টাকার জিম সাবস্ক্রিপশন, সাপ্লিমেন্ট বা ট্রেন্ডি ওয়েলনেস রুটিনের খুব দরকার পড়ে না, তাঁর জীবন্ত উদাহরণ আমার দাদু।"
তাঁর কথায়, যোগব্যায়াম, ধ্যান- এগুলি দক্ষিণ ভারতের পুরনো রীতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ করে শুরু হওয়া কোনও ট্রেন্ড নয়, এর জন্য পরিশ্রম দরকার। পোস্টের শেষে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তাঁর দাদুকে নতুন 'ওয়েলনেস আইকন' বানানোর প্রস্তাবও রেখেছেন।
একটি সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বুঝিয়ে দিল, স্বাস্থ্য আর সুখ কেনার জিনিস নয়—বরং বেছে নেওয়া জীবনধারা। ৯৫ বছরের ডা. বিশ্বনাথনের গল্প যেন আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়, কীভাবে কম চাহিদায় বেশি সুখ পাওয়া যায়। তাঁর লাইফস্টাইলই আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘রিয়েল ওয়েলনেস’–এর নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে।