হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই অ্যাম্বুল্যান্সের ভিতরে তাঁর যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। সেই সময় অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা এক আশা কর্মী কোনও চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে ব্যথা কমানোর ইনজেকশন দেন এবং জোর করে স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 April 2026 15:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাম্বুল্যান্সের (Ambulance Tragedy) ভিতরেই এক গর্ভবতী মায়ের জীবনে নেমে এল ভয়াবহ বিপর্যয়- একটি তাড়াহুড়োর প্রসবের চেষ্টা মুহূর্তেই সব শেষ করে দিল, পরিণতি হল মর্মান্তিক। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) এই ঘটনায় নবজাতকের মৃত্যু (Newborn baby) ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ, আর প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের (healthcare workers) দায়িত্ব ও সঠিক চিকিৎসা প্রক্রিয়া।
অভিযোগ, অ্যাম্বুল্যান্সে প্রসব করানোর সময় এক স্বাস্থ্যকর্মীর ভুল ও তাড়াহুড়োর কারণে নবজাতকের দেহ আলাদা হয়ে যায় এবং মায়ের গর্ভে থেকে যায় শিশুর মাথা। ঘটনাটি ঘটেছে বস্তি জেলায় (Uttar Pradesh's Basti)।
জানা গেছে, সাত মাসের গর্ভবতী প্রেমা দেবীর হঠাৎ প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ডাকেন। পরিবার সূত্রে খবর, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই অ্যাম্বুল্যান্সের ভিতরে তাঁর যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। সেই সময় অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা এক আশা কর্মী কোনও চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে ব্যথা কমানোর ইনজেকশন দেন এবং জোর করে স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
প্রসূতির স্বামীর বিস্ফোরক অভিযোগ, তাড়াহুড়ো করতে গিয়েই শিশুটির শরীর বাইরে চলে আসে কিন্তু মাথা মায়ের গর্ভে রয়ে যায়। ঘটনার পর অ্যাম্বুল্যান্সের অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘাবড়ে গিয়ে মহিলার অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানিয়ে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে তাঁকে জেলা হাসপাতালে রেফার করেন।
হাসপাতালে আলট্রাসাউন্ড ও বিভিন্ন পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন। এরপর জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির মাথা মায়ের গর্ভ থেকে বের করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করা হলে মায়ের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারত। বর্তমানে প্রেমা দেবী চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আশা কর্মী-সহ অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ ছাড়া প্রসব করানোর চেষ্টা এবং তাড়াহুড়ো করাই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণ। পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, প্রশ্ন উঠছে গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও দায়িত্ব নিয়ে।