মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, “তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করার অর্ডার দেওয়া হচ্ছে। বলছে এজেন্টদের গ্রেফতার করো। কিন্তু একজনকে গ্রেফতার করবেন তো হাজার জন বেরোবে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 14 April 2026 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আর দশ দিনও বাকি নেই। ঠিক তার আগেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা এবং তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের ধরপাকড় নিয়ে চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার হাওড়ার জগৎবল্লভপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার সভা থেকে সরাসরি তোপ দেগে তাঁর দাবি, শাসকদলের সংগঠনকে পঙ্গু করে দিতেই মধ্যরাতে ইডি-সিবিআই (ED CBI) তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, “তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করার অর্ডার দেওয়া হচ্ছে। বলছে এজেন্টদের গ্রেফতার করো। কিন্তু একজনকে গ্রেফতার করবেন তো হাজার জন বেরোবে।”
বিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারি ও প্রেক্ষাপট
সুনির্দিষ্ট কোনও নাম না নিলেও মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের নেপথ্যে আইপ্যাক-কর্তা বিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারিকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে সোমবারই তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশের ঠিকানায় হানা দিয়েছিল ইডি। রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট বিনেশকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনাচক্রে, গত রবিবারই খণ্ডঘোষের সভা থেকে মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, “মধ্যরাত থেকে অপারেশন শুরু হবে।” তাঁর সেই আশঙ্কাই এদিন বাস্তবে রূপ পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেত্রী।
‘বিকল্প ব্যবস্থা’ ও মা-বোনেদের ডাক
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে এ দিন বারংবার অভিযোগ তোলেন মমতা। তিনি বলেন, “তৃণমূলের বুথ এজেন্টরা যাতে কেন্দ্রে বসতে না পারে, সেই কারণেই এই গ্রেফতারি। তবে আমরাও তৈরি। প্যারালাল মেশিনারি (বিকল্প ব্যবস্থা) তৈরি রাখতে হবে। একজনকে ধরলে আর একজন থাকবে। প্রয়োজনে মা-বোনেরা এজেন্ট হিসেবে বুথে বসবেন।”
বিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার জানা গিয়েছে, অর্থ পাচার মামলায় আইপ্যাক-এর আরেক প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের স্ত্রী এবং ভাইকেও তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি-র দাবি, বিনেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ৩৩ শতাংশের অংশীদার এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। দিল্লি পুলিশের এফআইআর-এর সূত্র ধরেই এই তদন্তের জাল ছড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে ভোটকুশলী সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের ওপর এই আইনি চাপ তৃণমূলের রণকৌশলে বড় ধাক্কা।