ইসলামাবাদ সামিটকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্বের কাছে পাকিস্তান বার্তা দিতে চেয়েছিল যে, তারা ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে সক্ষম। কিন্তু সাধারণ অপারেশনাল পেমেন্ট বা হোটেলের খরচ মেটাতে না পারার মতো ঘটনা বরং পাকিস্তানের গভীর অর্থনৈতিক সংকটের কঙ্কালসার চেহারাটাকেই ফের সামনে এনে দিল।

ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেল
শেষ আপডেট: 14 April 2026 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার বড় মাপের 'শান্তি দূত' হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিল পাকিস্তান (Pakistan)। লক্ষ্য ছিল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক আলোচনার মধ্যস্থতা (US Iran peace talk Islamabad mediation) করে বিশ্বমঞ্চে হারানো জমি ফিরে পাওয়া। কিন্তু সেই কূটনৈতিক সাফল্যের স্বপ্ন এখন বড়সড় কেলেঙ্কারিতে (Islamabad diplomatic embarrassment) রূপ নিয়েছে।
News18-এর একটি প্রতিবেদন বলছে, অভিযোগ উঠেছে, গত ১০ থেকে ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলে আয়োজিত ওই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের শেষে হোটেলের বিলই মেটাতে পারেনি পাকিস্তান সরকার (Pakistan failed to pay Serena hotel bills)!
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, পরিস্থিতি এতটাই করুণ হয়ে দাঁড়ায় যে, শেষমেশ হোটেলের বকেয়া মেটাতে আসরে নামতে হয় স্বয়ং মালিকপক্ষকে। আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হোটেলের মালিক নিজেই যাবতীয় খরচ মিটিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়েও আন্তর্জাতিক স্তরের একটি অনুষ্ঠানের খরচ মেটাতে না পারার এই নজিরবিহীন ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে হাসাহাসি শুরু হয়েছে।
ইসলামাবাদ সামিটকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্বের কাছে পাকিস্তান বার্তা দিতে চেয়েছিল যে, তারা ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে সক্ষম। কিন্তু সাধারণ অপারেশনাল পেমেন্ট বা হোটেলের খরচ মেটাতে না পারার মতো ঘটনা বরং পাকিস্তানের গভীর অর্থনৈতিক সংকটের কঙ্কালসার চেহারাটাকেই ফের সামনে এনে দিল।
গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, "একটি বড় মাপের আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজন করে সাধারণ বিল মেটাতে না পারা রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও আর্থিক দেউলিয়াপনাকেই প্রমাণ করে।"
বর্তমানে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF-এর কড়া নজরদারিতে রয়েছে। দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার ৭ থেকে ৯ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। এমন পরিস্থিতিতে এই 'হোটেল বিল' কেলেঙ্কারি প্রতীকী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, যে দেশ নিজের হোটেলের বিল মেটাতে পারে না, তারা কীভাবে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এক নামী কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞের কথায়, "যে দেশ কূটনৈতিক জয়ের দাবি করছে, তারা একটা হোটেলের বিল মেটাতে পারে না - এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কিছু হতে পারে না।"