পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন ইসলামাবাদের ‘রেড জোন’-এ অবস্থিত সেরেনা হোটেলের দিকে।

সেরেনা হোটেল
শেষ আপডেট: 11 April 2026 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন ইসলামাবাদের ‘রেড জোন’-এ অবস্থিত সেরেনা হোটেলের (Serena Hotel Islamabad) দিকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের (US Iran Peace Talk) মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সাক্ষী হতে চলেছে এই পাঁচতারা হোটেল। বৈঠক ঘিরে গোটা হোটেলকে কার্যত একটি দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। পর্যটকদের সরিয়ে দিয়ে তৈরি হয়েছে স্পেশাল ‘ডিপ্লোম্যাটিক জোন’। এমনকি নিরাপত্তার খাতিরে ইসলামাবাদে দু’দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছে পাকিস্তান (Pakistan) সরকার।

বাজপেয়ী থেকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন: ইতিহাসের সাক্ষী সেরেনা
২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা এই হোটেলের সঙ্গে কূটনীতির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০০৪ সালে সার্ক (SAARC) সম্মেলনে যোগ দিতে যখন পাকিস্তানের মাটিতে পা রেখেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, তখন তাঁর ঠিকানা ছিল এই সেরেনা হোটেলই। পাকিস্তানের অন্যতম নিরাপদ এবং বিলাসবহুল এই ইমারতটি আধুনিক স্থাপত্য ও ইসলামিক ঐতিহ্যের এক অদ্ভুত মিশেল। কেবল বাজপেয়ী নন, হিলারি ক্লিনটন থেকে শুরু করে একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের আতিথেয়তার রেকর্ড রয়েছে এই হোটেলের ঝুলিতে।

খাবারের জাদুতেও অনন্য: বিখ্যাত সেই ‘লাবাবদার কাবাব’
সেরেনা হোটেল কেবল আলোচনার টেবিলের জন্য নয়, পরিচিত তার রাজকীয় স্বাদের খাবারের জন্যও। এখানে রয়েছে বিশ্বমানের কয়েকটি রেস্তোরাঁ, যার মধ্যে ‘জামানা’ ও ‘দাওয়াত’ উল্লেখযোগ্য। তবে ভোজনরসিকদের আরও একটি আকর্ষণ হলো এখানকার ‘আল মাঘরেব’ রেস্তোরাঁ।
জামানা হল সারাদিন খোলা বা অল ডে ডাইনিং রেস্তোরাঁ। আন্তর্জাতিক ও পাকিস্তানি নানা স্বাদের বুফে পরিবেশন করা হয় এখানে। খাঁটি পাকিস্তানি খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে ‘দাওয়াত’ ফাইন ডাইনিং রেস্তোরাঁ আদর্শ, সঙ্গে থাকে লাইভ ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতের আয়োজন।
থাই, ইন্দোনেশিয়ান, জাপানি ও চাইনিজ—দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা স্বাদের বিশেষ পদ পরিবেশনের জন্য পরিচিত সেরেনার ওয়াইল্ড রাইস রেস্তোরাঁ। আবার মরক্কো ও লেবাননের এক্সোটিক খাবারের সম্ভার, মধ্যপ্রাচ্যের আবহে সাজানো আল মাঘরেব রেস্তোরাঁর অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। সেই সঙ্গে রয়েছে জনপ্রিয় ক্যাফে ও প্যাটিসেরি ‘রাকাপোশি’। আর রয়েছে খোলা আকাশের নিচে মৌসুমি রেস্তোরাঁ ‘বারাদরি’। ছাদে বসে রাজকীয় ভোজ। হোটেলের ছাদে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁ থেকে গোটা ইসলামাবাদ দেখা যায়। এখানে মূলত 'বারবিকিউ' পরিবেশন করা হয়। চিকেন টিক্কা ও রেশমি কাবাবের মতো একদম টাটকা মশলায় তৈরি এই কাবাবগুলো সরাসরি তন্দুর থেকে পাতে এসে পড়ে।

এই হোটেলের সিগনেচার ডিশ হলো ‘লাবাবদার কাবাব’। তুলতুলে মাংসের ওপর মশলার যে আস্তরণ থাকে, তার স্বাদ এককথায় অনন্য। কূটনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে বিদেশি প্রতিনিধিদের মন জয় করতে এই কাবাবের জুড়ি মেলা ভার। এ ছাড়াও এখানকার পেশোয়ারি চপ এবং খাঁটি মুঘলাই খানা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
দাওয়াত রেস্তোরাঁ হল খাবারের স্বর্গরাজ্য। এই রেস্তোরাঁটি মূলত খাঁটি পাঞ্জাবি এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের খাবারের জন্য বিখ্যাত। মাখনে টইটম্বুর এই ডাল এখানকার সিগনেচার সাইড ডিশ। আল মাঘরেবের পেশোয়ারি চপ তথা খাসির মাংসের পাঁজর বা ল্যাম্ব চপ দিয়ে তৈরি এই পদটি বিদেশি প্রতিনিধিদের অত্যন্ত প্রিয়। সঙ্গে পাওয়া যায় আফগানি পোলাও। কিশমিশ, গাজর এবং নরম মাংসের টুকরো দিয়ে তৈরি এই সুগন্ধি পোলাও মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের কাছে প্রথম পছন্দ।

কেন সেরেনা হোটেলেই বৈঠক?
নিরাপত্তাই এই হোটেলের প্রধান শক্তি। ইসলামাবাদের সুরক্ষিত অঞ্চলে অবস্থিত এই হোটেলে অত্যাধুনিক কনফারেন্স হল এবং এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ রয়েছে, যেখানে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে আলোচনা সম্ভব। মার্কিন-ইরান সংঘাত যখন চরমে, তখন এই ‘সেফ হাউসে’ বসেই নির্ধারিত হতে পারে পশ্চিম এশিয়ার শান্তি-সমীকরণ।