গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট করা হয়। যেখানে ভোটদাতাদের অভয় দেওয়ার পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের ‘বার্নল’ ও ‘বোরোলিন’ মজুত রাখার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ডেরেক ও’ব্রায়েন এই পোস্টটিকে ‘কুরুচিকর’, ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর দাবি, এই ভাষা এক জন সরকারি আধিকারিকের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদার পরিপন্থী।

ডেরেক ও'ব্রায়েন
শেষ আপডেট: 14 April 2026 19:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট-বঙ্গে (West Bengal Assembly Election 2026) এবার নয়া বিতর্ক উস্কে দিল ‘বার্নল’ আর ‘বোরোলিন’। সৌজন্যে দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) একটি ফেসবুক পোস্ট। সেই পোস্টকে কেন্দ্র করেই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। অভিযোগের তির সরাসরি ডিইও-র বিরুদ্ধে, আর এই ইস্যুতে সরব হয়ে খোদ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দ্বারস্থ হল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
কী ছিল সেই ডিইও-র সেই পোস্টে যে কারণে এত জলঘোলা? দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) পেজ থেকে করা সেই পোস্টে একদিকে যেমন ভোটারদের অভয় দেওয়া হয়েছে, তেমনই অপরাধীদের উদ্দেশে ধেয়ে গিয়েছে কড়া বার্তা। আর সেই বার্তায় ‘বার্নল’ ও ‘বোরোলিন’-এর অনুষঙ্গ টেনেই শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। পোস্টের ক্যাপশনে ভোটারদের উদ্দেশে লেখা হয়েছে, “সকল মা, বোন ও ভাইদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে।” এর পরেই সুর চড়িয়ে সমাজবিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখা হয়েছে, “কিছু লোক এতে জ্বলতে পারে। গুন্ডা, অপরাধীরা সাবধান। নিজেদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বার্নল ও বোরোলিন মজুত রাখুন। না হলে উত্তাপ এতটাই বাড়বে যে আপনারা পুড়ে যাবেন।” কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভোটে কেউ বাধা দিলে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যেখানে ওই মলমও কোনও কাজে আসবে না। মঙ্গলবার, পিংলা ও তমলুকের সভা থেকে সেই প্রসঙ্গ টেনেই তুফানি মেজাজে ভাষণ শুরু করেন মমতা (Mamata Banerjee)।
এই বিষয়ে সরব হন ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O'Brien)। এই পোস্ট ঘিরেই সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে নালিশ জানায় তৃণমূল। রাজ্য সভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন লিখিত অভিযোগে জানান, এক জন সরকারি আধিকারিক হয়ে এমন ‘কুরুচিকর’, ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘হুমকিভরা’ ভাষা ব্যবহার করা যায় না। তৃণমূলের দাবি, এই পোস্টটি সরাসরি আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা, ডিইও তা ভঙ্গ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে একে ‘ক্রিমিনাল ইনটিমিডেশন’ বা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন হিসেবে দেখছে ঘাসফুল শিবির।
কমিশনের (ECI) কাছে তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে দক্ষিণ কলকাতার ওই নির্বাচনী আধিকারিককে পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি, সোশাল মিডিয়া থেকে ওই বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলে আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন ডেরেক।
এই প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের সভা থেকে চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘বার্নল নয়, আইসক্রিম দেব’ বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল নেত্রীর গলায় এদিন শোনা গিয়েছে চেনা বিদ্রুপের সুর। বিজেপি (BJP) তথা বিরোধীদের নাম না করে তিনি বলেন, "সার্কুলার দেওয়া হয়েছে, সেখানে বার্নল-বোরোলিনের কথা লেখা হয়েছে। কাদের এত ভয় দেখাচ্ছেন? যারা বলছে বার্নল দিয়ে পুড়িয়ে দেব, বার্নল রেখে দাও— তাদের বলুন তোমাদের জন্য আমাদের বার্নল নয়, আইসক্রিম দেব।"
এখন দেখার, তৃণমূলের এই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন দক্ষিণ কলকাতার ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না। তবে ভোটের আগে ‘বার্নল-বোরোলিন’ বিতর্ক যে সরগরম করে দিল কলকাতার রাজনীতি, তা বলাই বাহুল্য।