ইসলামাবাদ বৈঠকের আগেই ইরানের কড়া বার্তা— যুদ্ধবিরতি না হলে আলোচনা নয়। পাল্টা ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যর্থ হলে বড় হামলার আশঙ্কা, বাড়ছে আন্তর্জা

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 11 April 2026 08:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার ইসলামাবাদে আমেরিকা এবং ইরানের (Iran) মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, আলোচনার শুরুর আগেই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে তারা আলোচনায় বসবে না (Middle East Crisis)। ইজরায়েলি হামলা এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত অর্থ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা কথা বলতে রাজি নয়।
এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনায় অংশ নেবে না। তেহরানের অভিযোগ, ইজরায়েল এখনও লেবাননে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবারও লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের ঘালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া— এই দুটি শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়। ইরানের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহর মতে, ইজরায়েলি হামলা চালিয়ে যাওয়া আসলে যুদ্ধবিরতির শর্তের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি আমেরিকাকে 'যুদ্ধ' অথবা 'যুদ্ধবিরতি'— যে কোনও একটি বেছে নেওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছেন।
ইরানের এই মনোভাবের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইসলামাবাদে আসন্ন এই আলোচনা যদি ব্যর্থ হয়, তবে ইরানে আবার হামলা চালানো হবে। ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকান যুদ্ধজাহাজগুলোতে আধুনিকতম ও শক্তিশালী সব অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ তোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, গতবারের চেয়েও এবার আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প আরও লিখেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমঝোতা করা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি
পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও আলোচনার আশা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। এই বৈঠকে যোগ দিতে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই ইসলামাবাদের পথে রওনা হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি সৎ উদ্দেশ্যে আলোচনা করতে চায়, তবে আমেরিকা বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। তবে আলোচনার নামে ধোঁকা দিলে আমেরিকা যে নমনীয় থাকবে না, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট স্পিকার বাকের ঘালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে পৌঁছে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।