কলকাতার চিনা কনসাল্ট জেনারেল বলেন, এই সংঘাত ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এটি আঞ্চলিক দেশগুলির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

শেষ আপডেট: 10 April 2026 22:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের আক্রমণ ঘিরে আরব দুনিয়ার অশান্তি থামাতে তারা মধ্যস্থতাকারী হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি চিনের। কলকাতায় চিনের কনসাল জেনারেল শু ওয়ে শুক্রবার এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, যুদ্ধ বিরতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার দেশের বিদেশ মন্ত্রী ও মন্ত্রক। তিনি বলেন যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত জরুরি ছিল। সেই কাজে চিন সব ধরনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছে।
যদিও চিনা সরকার সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়নি। প্রকাশ্যে ইরানকে সাহায্যও করেনি। যদিও একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে দাবি করা হয় চিন ও রাশিয়ার সামরিক সহায়তা পেয়েছে ইরান। ওই দুই দেশের অস্ত্র দিয়ে তারা আমেরিকা ও ইসরাইলের আক্রমণ প্রতিহত করে।
তবে চিন কেন সরাসরি ময়দানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিল না সে ব্যাপারে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা বিদ্যমান। তারা পরোক্ষে যুদ্ধ বিরতির আলোচনায় অংশ নিয়েছে। এই ব্যাপারে পাকিস্তানের সঙ্গে তারা ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করে গিয়েছে। ইসলামাবাদে আরব দুনিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের বিদেশ মন্ত্রীদের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতি নিয়ে আলোচনার পর পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী মহম্মদ ইসহাক দার বেজিং গিয়ে চিনের বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির জোর তৎপরতা শুরু করেন। ইরান ও আমেরিকার সঙ্গে তাঁর আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি খসড়া যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবে সায় দেয় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।
কলকাতার চিনা কনসাল্ট জেনারেল বলেন, এই সংঘাত ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এটি আঞ্চলিক দেশগুলির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকেই চিন একটি বস্তুনিষ্ঠ, ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ও সংঘাতের অবসানে সহায়তা করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
তাঁর কথায়, আমাদের বিদেশ মন্ত্রী ওয়াং ই ইরান, ইসরায়েল, রাশিয়া এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ২৬ বার টেলিফোনে কথা বলেছেন। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক চিনা সরকারের বিশেষ দূত মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় ওই অঞ্চলে সফর করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক সমাধানের পথই হল সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক উপায়।
শুক্রবার কনসাল জেনারেল আরও বলেন, 'যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ায় চিন তাকে স্বাগত এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে। তিনি আরও যোগ করেন, 'চিন সর্বদা সংঘাতের অবিলম্বে অবসান, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে এসেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে চিন সক্রিয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।