ইসলামাবাদে (Islamabad) এই সপ্তাহান্তে নির্ধারিত আমেরিকা-ইরান বৈঠকের (Iran US Peace Talks) ওপরও এই সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (Pakistan PM)।

শাহবাজ শরিফ (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 9 April 2026 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East Tension) টানটান উত্তেজনার মাঝেই লেবাননে (Lebanon) ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shahbaz Sharif)। গত ছ'সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় আক্রমণে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামকে (Nawaf Salam) ফোন করে সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা দিলেন শরিফ।
পাক সরকারের সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ফোনালাপের সময় শাহবাজ শরিফ ইজরায়েলের (Israel) লাগাতার আগ্রাসনকে তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “লেবাননে (Lebanon) হাজারো নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। পাকিস্তান সবসময়ই আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে।”
শাহবাজ আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি শুধু লেবাননকে নয়, মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East Tension) শান্তির পথকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষত, গত দুই সপ্তাহ ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে, লেবাননে ইজরায়েলের তীব্র হামলা সেই চুক্তিকেই নষ্ট করতে পারে।
এর পাশাপাশি, ইসলামাবাদে (Islamabad) এই সপ্তাহান্তে নির্ধারিত আমেরিকা-ইরান বৈঠকের (Iran US Peace Talks) ওপরও এই সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (Pakistan PM)। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তারা সত্যিই আন্তরিকভাবে চাইছে এই বৈঠক সফল হোক, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার পথ খুলে যায়।
ফোনালাপে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম পাকিস্তানের শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি শাহবাজ শরিফকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই কঠিন সময়ে পাকিস্তানের সমর্থন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” সালাম আরও অনুরোধ করেন, লেবাননের ওপর আক্রমণ বন্ধ করাতে আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তান যেন আরও সক্রিয় ভূমিকা নেয়।
দুই দেশের নেতারা একমত হন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে সহিংসতা থামানো প্রয়োজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে- এই আশঙ্কাও উঠে আসে আলোচনায়।
ফোনালাপ শেষে পাকিস্তান জানায়, ইজরায়েলের আগ্রাসন নিঃশর্তভাবে বন্ধ হওয়া জরুরি। লেবাননের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসলামাবাদ বলেছে, তারা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সমীকরণের মাঝে এই কূটনৈতিক যোগাযোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার, পাকিস্তানের শান্তির আহ্বান আন্তর্জাতিক মহলে কতটা সাড়া ফেলে এবং লেবাননে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি কিছুটা হলেও স্বস্তি পায় কি না।