অনেকদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে গুঞ্জন ছিল, নতুন ছবিতে একেবারে অন্যরকমভাবে নিজেকে হাজির করতে চলেছেন জিৎ। ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’— এই ছবিতে তাঁকে একাধিক ভিন্ন লুকে দেখা যাবে, এমনটাই শোনা যাচ্ছিল গত বছর থেকেই।

শেষ আপডেট: 14 April 2026 12:32
অনেকদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে গুঞ্জন ছিল, নতুন ছবিতে একেবারে অন্যরকমভাবে নিজেকে হাজির করতে চলেছেন জিৎ। ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’— এই ছবিতে তাঁকে একাধিক ভিন্ন লুকে দেখা যাবে, এমনটাই শোনা যাচ্ছিল গত বছর থেকেই। কিছুদিন আগে টিজার ও পোস্টার প্রকাশ্যে আসতেই সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। প্রথমে ঠিক হয়েছিল, চলতি বছরের ২৭ মে-ই প্রেক্ষাগৃহে আসবে এই নায়কের ছবি। মুক্তির আগে দক্ষিণে তিরুপতি বালাজি মন্দিরে গিয়ে আশীর্বাদও নিয়েছিলেন জিৎ, যা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। (jeet, keu bole biplobi keu bole dakat, jeet superstar)
ছবিটির প্রযোজনায় রয়েছে নন্দী মুভিজ এবং জিতের নিজস্ব সংস্থা জিৎ ফিল্ম ওয়ার্ক, পরিচালনায় পথিকৃৎ বসু। সব কিছু স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছিল বলে মনে হলেও আচমকাই সামনে আসে অন্য ছবি। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে আর মুক্তি পাচ্ছে না এই বড় মাপের প্রজেক্ট। মে মাসের মুক্তির পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে শোনা যাচ্ছে, জিৎ ও প্রযোজক প্রদীপ কুমার নন্দীর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ছবির অতিরিক্ত বাজেট, প্রচার কৌশল এবং মুক্তি নিয়ে জটিলতাই নাকি এই বিলম্বের মূল কারণ। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বছরের শেষের দিকেই ছবিটি মুক্তি পেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
এই বিষয়ে প্রদীপ কুমার নন্দীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে সংক্ষিপ্ত উত্তরে জানান, “আমি বুঝতে পারছি কী জানতে চাইবেন, কিন্তু এই মুহূর্তে আমার কাছে কোনও উত্তর নেই। আমি কিছু বলতে পারব না।”
এই ছবির আরেকটি বড় আকর্ষণ তার বিষয়বস্তু। এখানে জিৎ অভিনয় করছেন অনন্ত সিংহের চরিত্রে— যিনি একদিকে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম নায়ক, অন্যদিকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় রাজনীতিবিদ।
১৯০৩ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া অনন্ত, স্কুলজীবনেই মাস্টারদা সূর্য সেনের সংস্পর্শে আসেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার আক্রমণ মামলায় তাঁকে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের সাজা দেওয়া হয়। পরে মুক্তি পেয়ে তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও মোটরগাড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর প্রযোজিত ছবির মধ্যে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
তবে অনন্ত সিংহকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। শোনা যায়, তিনি নকশালপন্থী একটি দল গঠন করেছিলেন। ১৯৬০ সালে কলকাতায় ধারাবাহিক ব্যাংক ডাকাতির অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের জদুগড় থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং আবারও আট বছর কারাবাস করতে হয়। এমনও দাবি রয়েছে, সেই ডাকাতির অর্থ তিনি বাংলার অসহায় মানুষের সাহায্যে ব্যয় করেছিলেন। ১৯৭৯ সালের ২৫ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
এখন গোটা ছবিকে ঘিরে প্রত্যাশা যেমন রয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তাও। একদিকে ইতিহাসের বিতর্কিত অথচ আকর্ষণীয় চরিত্র, অন্যদিকে মুক্তি ঘিরে আর্থিক জট— সব মিলিয়ে ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ যেন পর্দার বাইরেও এক নাটকীয় কাহিনি। শেষ পর্যন্ত এই গল্পের পরিণতি কী দাঁড়াবে— সেটাই এখন দেখার।