কেন্দ্র চাইছে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে। এর জন্য ১৬-১৮ এপ্রিল সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, ২০২৭-এর আগে সেন্সাস এবং তারপর সীমানা পুনর্নির্ধারণ না হলে সংরক্ষণ সম্ভব নয়। সরকার চাইছে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই তড়িঘড়ি এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও, সংসদীয় পাটিগণিতের প্যাঁচে এই ঐতিহাসিক বিলের ভবিষ্যৎ এখন ঝুলে রয়েছে সংসদের বিশেষ অধিবেশনের ওপর।

লোকসভা
শেষ আপডেট: 14 April 2026 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই সংসদে (Parliament) মহিলা সংরক্ষণ চালু করতে মরিয়া মোদী (Narendra Modi) সরকার। কিন্তু সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে সংখ্যার অঙ্ক। আসন্ন বিশেষ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাশ করানোই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রের কাছে। আর এখানেই ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেসের (Congress) নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট।
২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশ হলেও তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ২০২৭-এর জনগণনা এবং পরবর্তী সীমানা পুনর্নির্ধারণের (Delimitation) পর। অর্থাৎ, বর্তমান আইন অনুযায়ী ২০৩৪ সালের আগে মহিলারা সংরক্ষিত আসন পাচ্ছিলেন না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চাইছেন ২০২৯-এর ভোটেই এই সংরক্ষণ চালু হোক।
সেই কারণেই আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, জনগণনার শর্ত শিথিল করে ২০১১ সালের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই তড়িঘড়ি সীমানা পুনর্নির্ধারণ সেরে ফেলা এবং সংরক্ষণ কার্যকর করা।
কিন্তু এই পথে অন্যতম দুশ্চিন্তা হল সংসদীয় পাটিগণিত। বিজেপি তার সাংসদদের পূর্ণ উপস্থিতির জন্য হুইপ জারি করলেও সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। লোকসভায় এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন। অন্যদিকে বিরোধীদের হাতে রয়েছে ২৪০টি। অন্যদের হাতে আছে ১২টি। কিন্তু সংশোধনী পাশের ম্যাজিক ফিগার ৩৬৪। অর্থাৎ, বিরোধী শিবিরের সমর্থন ছাড়া এই বিলের বৈতরণী পার হওয়া এনডিএ-র পক্ষে কার্যত অসম্ভব। রাজ্যসভাতেও পরিস্থিতি একইরকম।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই বিলে কংগ্রেসের আপত্তির জায়গা কোথায়? মল্লিকার্জুন খাড়গে থেকে রাহুল গান্ধী সকলেই পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, বিরোধী শিবিরের প্রধান আপত্তির জায়গা দুটি, প্রথমত সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং উত্তর-দক্ষিণ ভারতের মধ্যে বিভাজন। বিরোধীদের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণের নাম করে আসলে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮১৬ করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। এতে উত্তর ভারতের আসন ব্যাপক হারে বাড়লেও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে। পাশপাশি, ওবিসি কোটা নিয়েও বিরোধের জায়গা রয়েছে। শুরু থেকেই বিরোধীদের দাবি ছিল, এই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের মধ্যে ওবিসি মহিলাদের জন্য পৃথক কোটা রাখতে হবে, যা সরকার মানতে নারাজ।
এর পরে মোদীর পাল্টা তোপ দেগেছেন। সোমবার ‘নারী শক্তি বন্দন সম্মেলনে’ প্রধানমন্ত্রী সাফ জানান, দেশ নতুন ইতিহাস গড়ার মুখে। বিরোধীদের একহাত নিয়ে তিনি বলেন, "২০২৩ সালে যখন বিলটি এসেছিল, তখন সবাই একবাক্যে ২০২৯ সাল থেকে এটি চালুর দাবি তুলেছিলেন। এখন কেন পিছিয়ে যাচ্ছেন?" তাঁর দাবি, এর ফলে লোকসভায় নারী প্রতিনিধির সংখ্যা ২৭৩-এ পৌঁছাবে।
সব মিলিয়ে ১৬ তারিখ থেকে শুরু হতে চলা বিশেষ অধিবেশন ঘিরে সরগরম রাজধানী। মহিলা সংরক্ষণের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ শেষ পর্যন্ত বিরোধীদের বাধায় আটকে যায় না কি মোদী সরকার নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি করে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।