সম্প্রতি এক আলোচনায় আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরু (Sadhguru)-র সামনে নিজের মনের এই দোলাচলের কথাই খোলামেলা ভাবে তুলে ধরেন অভিনেত্রী।

শেষ আপডেট: 14 April 2026 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেই এখন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সামলাচ্ছেন আলিয়া ভাট (Alia Bhatt), আর তা হল মাতৃত্ব। ছোট্ট মেয়ে রাহাকে ঘিরেই তাঁর দিনের একটা বড় অংশ কাটছে। তবে এই নতুন দায়িত্বের সঙ্গে যেমন আনন্দ জড়িয়ে, তেমনই রয়েছে অজানা আশঙ্কা ও একাধিক প্রশ্নও।
সম্প্রতি এক আলোচনায় আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরু (Sadhguru)-র সামনে নিজের মনের এই দোলাচলের কথাই খোলামেলা ভাবে তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তিনি স্বীকার করেন, মা হওয়ার পর থেকে প্রায়ই মনে হয়, তিনি কি ঠিকভাবে সন্তানকে বড় করে তুলতে পারছেন? তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত কি সঠিক?
আলিয়ার কথায়, মাতৃত্ব এক অদ্ভুত অনুভূতি—একদিকে গভীর আনন্দ, অন্যদিকে অবিরাম উদ্বেগ। বিশেষ করে মেয়ের আচরণ নিয়ে মাঝে মাঝে দুশ্চিন্তা বাড়ে। তিনি জানান, ছোট্ট রাহা সবসময় জিততে চায়। খেলায় অন্য কেউ জিতলে সে মেনে নিতে পারে না, বরং অভিযোগ তোলে প্রতারণার। এই স্বভাব ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েই চিন্তায় থাকেন অভিনেত্রী।
এই প্রসঙ্গে সদগুরুর উত্তর ছিল সহজ, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, নিখুঁত হওয়ার চাপে না থেকে আগে একজন সচেতন অভিভাবক হয়ে ওঠাই জরুরি। এরপর তিনি আলিয়াকে এমন একটি প্রশ্ন করেন, যা গোটা কথোপকথনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়—মা ও সন্তানের মধ্যে কে বেশি আনন্দে থাকে?
আলিয়া যখন স্বীকার করেন, তাঁর মেয়ে অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত এবং আনন্দে থাকে, তখন সদগুরু পরামর্শ দেন—সন্তানকেই পর্যবেক্ষণ করতে। তাঁর মতে, শিশুরা জীবনের সঙ্গে বেশি সংযুক্ত। তাদের স্বাভাবিক আচরণ, সহজে আনন্দ পাওয়ার ক্ষমতা—সবটাই বড়দের শেখার মতো।
মেয়ের ‘হার মানতে না চাওয়া’ মনোভাব নিয়েও অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মানসিকতার পরিবর্তন হবে বলেই আশ্বাস দেন সদগুরু। বরং সন্তানকে বুঝতে শেখা এবং তাকে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, আলিয়া ভাট (Alia Bhatt) এবং রণবীর কাপুর (Ranbir Kapoor)-র জীবনে ২০২২ সালে শুরু হয় নতুন অধ্যায়। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁদের কোলজুড়ে আসে কন্যা রাহা। এখন কাজের ফাঁকেই মেয়েকে ঘিরে তাঁদের সময় কাটে। আর সেই পথেই ধরা পড়ছে মাতৃত্বের আনন্দ,পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও, যে ছবিটা প্রতিটা অভিভাবকের ক্ষেত্রেই এক।