আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন নাতনি জানাই ভোঁসলে। শেষকৃত্যে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি তিনি। পরে ইনস্টাগ্রামে দুটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেন। একটি পুরোনো ছবির সঙ্গে লিখলেন, “Goodbye my love, love of my life”।
_0.jpg.webp)
প্রয়াত ঠাকুমাকে নিয়ে জানাইয়ের প্রথম পোস্ট
শেষ আপডেট: 14 April 2026 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের (Asha Bhosle) শেষকৃত্যে উপচে পড়েছিল মানুষের ভিড়। পঞ্চভূতে বিলীন হয়েছেন প্রয়াত শিল্পী। তাঁর প্রয়াণে শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্ব শোকাহত। শিবাজি পার্কের ছিলেন আশার নাতনি জানাই ভোঁসলে (Zanai Bhosle), ঠাকুমার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তিনি। এমন অনেক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যা দেখে বোঝা যাচ্ছে সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে হারিয়ে কতটা ভেঙে পড়েছেন তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেছে, তা থেকে স্পষ্ট দুজনের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল।
নাতনির আবেগঘন বার্তা
আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন নাতনি জানাই ভোঁসলে। শেষকৃত্যে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি তিনি। পরে ইনস্টাগ্রামে দুটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেন। একটি পুরোনো ছবির সঙ্গে লিখলেন, “Goodbye my love, love of my life”। আরেক পোস্টে রাষ্ট্রীয় পতাকায় মোড়া আশা ভোঁসলের মরদেহের ছবি দিয়ে জানাই লিখেছেন, “আজ এত মানুষ তাঁকে সম্মান জানালেন, ভালবাসা দিলেন… সবটুকুই তাঁর প্রাপ্য ছিল। তিনি আমাদের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন।”

বলিউডের তারকাদের ভিড়
সোমবার শ্মশানঘাটে এবং প্রয়াত শিল্পীর বাড়িতে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন বহু তারকা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আমির খান (Aamir Khan), ভিকি কৌশল (Vicky Kaushal), এ আর রহমান (A. R. Rahman), জ্যাকি শ্রফ (Jackie Shroff), রীতেশ দেশমুখ (Riteish Deshmukh), রণবীর সিং (Ranveer Singh), হেলেন (Helen) এবং আরও অনেকে।
রবিবারই আশা ভোঁসলের বাসভবনে সম্মান জানাতে গিয়েছিলেন জাভেদ আখতার (Javed Akhtar), শাবানা আজমি (Shabana Azmi), বিদ্যা বালান (Vidya Balan)।

হাসপাতালে শেষ লড়াই
শনিবার আশা ভোঁসলেকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, বেশ কিছু পুরোনো শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি হঠাৎ বহুঅঙ্গ বিকল হয়ে যায়। রবিবার দুপুরেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতীয় সঙ্গীতের এই অমর প্রতিভা।
সঙ্গীত জীবনের গৌরব
আশা ভোঁসলে পেয়েছেন দু’টি জাতীয় পুরস্কার, ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ। তাঁর কণ্ঠে ‘দম মারো দম’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘ইয়ে মেরা দিল’, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’— ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসেই অমর হয়ে রয়েছে। তাঁর প্রয়াণে স্তব্ধ সঙ্গীতমহল, কিন্তু স্মৃতি আর গান চিরকাল বেঁচে থাকবে সকলের হৃদয়ে।