ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ ঘুচল লিডস ইউনাইটেডের! নোয়া ওকাফরের জোড়া গোলের সুবাদে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে বড় অঘটন। মাইকেল ক্যারিকের দলের ছন্দপতন নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

নায়ক ওকাফর
শেষ আপডেট: 14 April 2026 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাগজে-কলমে ম্যাচটা ছিল একতরফা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (Manchester United) ঘরের মাঠে, টপ-থ্রি লড়াইয়ে। আর লিডস ইউনাইটেড (Leeds United) অবনমন বাঁচাতে মরিয়া। কিন্তু মাঠে নামতেই পালটে গেল সমস্ত অনুমান। ছন্নছাড়া ফুটবলে প্রথম ৩০ মিনিটেই ম্যাচ হাতছাড়া করে বসল ইউনাইটেড। যার সুযোগ নিয়ে লড়াই জিতে ইতিহাস লিখল লিডস।
খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন নোয়া ওকাফর (Noah Okafor)। ৫ মিনিটে প্রথম গোল। জেডেন বোগলের (Jayden Bogle) ক্রসে লেনি ইয়োরোর (Leny Yoro) ভুল ক্লিয়ারেন্স—সেখানেই সুযোগ। সদ্ব্যবহারে এতটুকু ভুল করেননি তিনি।
২৯ মিনিটে আবার ধাক্কা। ইউনাইটেড রক্ষণ দু’বার বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ। বল আসে ওকাফরের পায়ে। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে শট। ডিফ্লেক্ট হয়ে জালে। প্রথমার্ধেই ২-০। ম্যাচ তখন পুরপুরি লিডসের নিয়ন্ত্রণে।
দ্বিতীয়ার্ধে ফেরার চেষ্টা চালায় মাইকেল ক্যারিকের ছেলেরা। কিন্তু ৫৬ মিনিটে কামব্যাকের সামান্যতম আশাটুকু নিভে যায়। ডমিনিক ক্যালভার্ট-লিউইনের (Dominic Calvert-Lewin) চুল টেনে বসেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (Lisandro Martinez)। ভিএআরের পরামর্শ মেনে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। দশ জনে নেমে পড়ে ইউনাইটেড। ম্যাচে ফেরার রাস্তা কার্যত সেখানেই বন্ধ।
৬৯ মিনিটে কিছুটা হলেও নতুন করে আশা জেগেছিল ঠিকই। ব্রুনো ফার্নান্দেজের (Bruno Fernandes) ক্রস থেকে হেডে গোল শোধ করেন কাসেমিরো (Casemiro)। চলতি মরসুমে পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের ১৭তম অ্যাসিস্ট। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছুই হল না। শেষ দিকে একাধিক সুযোগ পেয়েও খালি হাতে ফিরল ইউনাইটেড। বেঞ্জামিন সেস্কো (Benjamin Sesko), কাসেমিরো—দু’জনের শট লাইন থেকে ক্লিয়ার। কিছুতেই সমতা ফেরেনি। লিডস শেষ পর্যন্ত এক গোলের লিড ধরে রাখে।
গতকালের এমন সংঘবদ্ধ পারফরম্যান্সের সুবাদে প্রথমত, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছর পর লিগ জিতল লিডস ইউনাইটেড। দ্বিতীয়ত, রেলিগেশন জোন থেকে ৬ পয়েন্ট দূরে চলে গেল। ড্যানিয়েল ফার্কের (Daniel Farke) টিমের জন্য এটা বড়সড় স্বস্তির খবর।
অন্যদিকে মাইকেল ক্যারিকের (Michael Carrick) ইউনাইটেড ছন্দ হারাচ্ছে। শেষ চার ম্যাচে মাত্র একটি জয়। টেবিলে তৃতীয় হলেও ডিফেন্সের এই ভাঙন যদি চলতে থাকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (Champions League) ছাড়পত্র জোগাড়ের লড়াই কঠিন হয়ে যাবে।