দুই পক্ষের আলোচনার ভাঙন এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়েই ঘটল। দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি (Iran US Ceasfire) এই মাসের শুরুতে হয়েছিল, সেটি শেষ হতে আর মাত্র নয় দিন বাকি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকায় তেলের বাজারেও ফের অস্থিরতা বেড়েছে।
_0.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 April 2026 07:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-মার্কিন উত্তেজনা (Iran US Tension) কমানোর যে আশা ইসলামাবাদের (Islamabad) বৈঠক জাগিয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেল এক ফোনকলকে ঘিরে প্রবল বিতর্কে। তেহরানের দাবি, আলোচনার মাঝপথে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) ফোনেই পথচ্যুত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, ফলে কোনও সমঝোতা হয়নি এবং মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সকে (JD Vance) খালি হাতেই পাকিস্তান ছাড়তে হয়েছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী সঈদ আব্বাস আরাগচি ‘এক্স’-এ লিখেছেন, 'নেতানিয়াহুর ফোনে আলোচনার ফোকাস ইরান–মার্কিন স্বার্থ থেকে সরে গিয়ে ইজরায়েলের (Israel) দিকে ঘুরে যায়।' তাঁর অভিযোগ, 'যা যুদ্ধের মাধ্যমে পায়নি, আলোচনার টেবিলে সেটা আদায় করতে চাইছিল আমেরিকা।' ইরান সৎভাবে আলোচনা করতে বসেছিল, কিন্তু ভ্যান্সের বিদায়ী সাংবাদিক সম্মেলন ছিল অপ্রয়োজনীয়, এমনটাই মনে করছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। যদিও ওয়াশিংটনের তরফে নেতানিয়াহুর ফোনকল নিয়ে কোনও স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি আসেনি এখনও।
দুই পক্ষের আলোচনার ভাঙন এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়েই ঘটল। দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি (Iran US Ceasfire) এই মাসের শুরুতে হয়েছিল, সেটি শেষ হতে আর মাত্র নয় দিন বাকি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকায় তেলের বাজারেও ফের অস্থিরতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Pronali) নিরাপদ নৌ-পরিবহনের অনিশ্চয়তা তৈরির ফলে গত মাসে যেখানে অপরিশোধিত তেলের দাম ১১৯ ডলারের ওপর উঠেছিল, আলোচনার ব্যর্থতার পরে আবারও বিশ্লেষকরা তিন অঙ্কের দামের আশঙ্কা করছেন।
তেহরানের অভিযোগ, ইসলামাবাদ বৈঠকে আমেরিকা একতরফা কঠোর শর্ত চাপাতে চেয়েছিল। শুধু নৌ-পরিবহনের নিরাপত্তাই নয়, ইরানের সম্পূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি তুলে নেওয়া এবং মজুত ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর দাবি তোলে মার্কিন প্রতিনিধি দল। ভ্যান্স নাকি এগুলিকে 'চূড়ান্ত' ও 'সর্বোত্তম প্রস্তাব' হিসেবে পেশ করেন। ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে। হোয়াইট হাউস অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে মার্চ থেকে হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত প্রায় থমকে। ইরান সেখানে মাইন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি জাহাজপ্রতি ১০ লক্ষ ডলারেরও বেশি ‘ফি’ দাবি করছে, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনে অনুচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ভেস্তে যাওয়া আলোচনার ফলে মার্কিন জোটেও টানাপড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। স্পেন ও ইতালি ঘোষণা করেছে, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের জন্য তারা নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। ন্যাটোর আরও কয়েকটি দেশ ও উপসাগরীয় মিত্ররাও ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ মানতে নারাজ, ফলে ইরান ইস্যুতে আমেরিকা ক্রমশই আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।