বেআইনি আর্থিক লেনদেন মামলায় আই প্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে এবার গ্রেফতার করে হেফাজতে নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি

ধৃত ভিনেশ চান্ডেল
শেষ আপডেট: 14 April 2026 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মধ্যেই আই প্যাকের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা লাগল। বেআইনি আর্থিক লেনদেন মামলায় আই প্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে এবার গ্রেফতার করে হেফাজতে নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (I PAC ED Case )। এর পরই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কয়লা পাচার মামলার শিকড় এবার পৌঁছে গেছে এই নামী রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার অন্দরমহলে।
কেন গ্রেফতার হলেন ভিনেশ চান্ডেল?
I-PAC-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ৩৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক ভিনেশ চান্ডেলকে বেআইনি আর্থিক লেনদেন মামলায় গ্রেফতার করেছে ইডি। অভিযোগ, কয়লা পাচার থেকে আসা ‘কালো টাকা’ (Proceeds of Crime) সাদা করার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তদন্তকারীদের মতে, সংস্থার প্রশাসনিক ও আর্থিক সব বড় সিদ্ধান্তের পেছনে ছিলেন তিনি।
তল্লাশিতে উদ্ধার 'পলিটিক্যাল কানেকশন'!
চলতি মাসের শুরুতেই I-PAC-এর একাধিক ঠিকানায় হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই তল্লাশিতে যা মিলেছে, ইডির দাবি তা রীতিমতো বিস্ফোরক। বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল নথি ও গোপন আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচনী খরচের হিসাব সংক্রান্ত এমন কিছু কাগজও একটি রাজনৈতিক দলের অফিস থেকেও উদ্ধার হয়েছে। যদিও কৌশলগত কারণে সেই রাজনৈতিক দলের নাম এখনই খোলসা করেনি ইডি (ED)।
VIDEO | Bengal coal case: After his arrest, the Enforcement Directorate takes I-PAC director Vinesh Chandel to judge's residence in Delhi.#VineshChandel pic.twitter.com/5s19o4Xhcl
— Press Trust of India (@PTI_News) April 13, 2026
ইডি-র ৬টি প্রধান অভিযোগ: এক নজরে
তদন্তকারী সংস্থা বিনেশ চান্ডেল ও I-PAC-এর বিরুদ্ধে যে ৬টি মারাত্মক অভিযোগ এনেছে, সেগুলি হলো:
১। সংগঠিত বেআইনি আর্থিক লেনদেন: সুপরিকল্পিতভাবে কালো টাকা বাজারে ঘুরিয়ে সাদা করা হয়েছে।
২। হাওলা কারবার: ব্যাংকিং ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে হাওলা চ্যানেলে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।
৩। হিসাবে কারচুপি: প্রকৃত লেনদেন আড়াল করতে আয়-ব্যয়ের হিসাবকে ইচ্ছেমতো ভেঙে দেখানো হয়েছে।
৪। নির্বাচনী অস্বচ্ছতা: ভোট প্রচারের খরচে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।
৫। শীর্ষকর্তাদের যোগসাজশ: চান্ডেল-সহ সংস্থার নীতি-নির্ধারকরা এই গোটা প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
৬। দেশ ছাড়ার আশঙ্কা: বিনেশ চান্ডেলের ঘনঘন বিদেশ সফরের ইতিহাস থাকায় তিনি তদন্ত এড়াতে দেশ ছাড়তে পারেন বলে মনে করছে ইডি।
৫০ কোটির রহস্য
ED-র দাবি, প্রাথমিক তদন্তেই প্রায় ৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিস পাওয়া গিয়েছে। আধিকারিকদের ধারণা, জেরা এগোলে এই অঙ্ক কয়েকশো কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইডি সূত্রে বলা হচ্ছে, এটি কেবল একটি সাধারণ আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং অপরাধের টাকাকে বৈধ করার এক সুগভীর ষড়যন্ত্র।
I-PAC যেহেতু দেশের একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করে, তাই এই গ্রেফতারি কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং এক বড়সড় রাজনৈতিক ঝড়েরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইডি জানাচ্ছে, এই 'টাকা' আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে, ভিনেশকে জেরা করে সেটাই খুঁজে বের করা এখন প্রধান কাজ হবে।