দ্বিতীয় জনসভায় আসানসোলে পৌঁছে আরও চড়া সুরে তৃণমূলকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শিল্পাঞ্চলের এই খনি ও কলকারখানার শহর থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, আগামী ৪ মে-র পর বাংলায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 9 April 2026 15:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬-এর ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) জন্য বৃহস্পতিবার হলদিয়া থেকে প্রচার শুরু করেছিলেন। আর দ্বিতীয় জনসভায় আসানসোলে পৌঁছে আরও চড়া সুরে তৃণমূলকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। শিল্পাঞ্চলের এই খনি ও কলকারখানার শহর থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “আগামী ৪ মে-র পর বাংলায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে। তৃণমূলমুক্ত বাংলাই উন্নয়নের নতুন দিশা দেখাবে।” কয়লা ও বালি মাফিয়াদের দাপট নিয়ে এদিন শাসক দলকে রীতিমতো তুলোধনা করেন তিনি।
আসানসোলের জনসভা থেকে সাম্প্রতিক মালদহ কাণ্ড (Maldah Kaliachak Incident) নিয়ে বড়সড় মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল এখন পুরোপুরি ঘাবড়ে গিয়েছে। মোদীর কথায়, “তৃণমূলের মাথার ঠিক নেই। মালদহে ওরা ঘাবড়ে গিয়ে বিরাট ভুল করে ফেলেছে। এই ঘটনাই ওদের মহাজঙ্গলরাজের কফিনে শেষ পেরেক হয়ে দাঁড়াবে।” শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তৃণমূলের আক্রমণের কড়া সমালোচনা করে মোদী বলেন, “তৃণমূল এতই ভয় পেয়েছে যে দেশের সুরক্ষা বাহিনীকেও গালি দিচ্ছে। এর জবাব বাংলার দেশভক্ত মানুষ ব্যালটেই দিয়ে দেবে।”
আসানসোল মানেই কয়লা। আর সেই কয়লা ও বালি পাচার নিয়ে মমতার সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে মোদী বলেন, “তৃণমূলের আমলে আসানসোলে কয়লা ও বালি মাফিয়ারা এখন মানুষের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অন্যান্য প্রান্তে উন্নয়নের জোয়ার এলেও বাংলা আজ পিছিয়ে পড়ছে শুধুমাত্র এই মাফিয়া রাজের কারণে।” তাঁর অভিযোগ, সিপিএম-এর মতো তৃণমূলও ভয় আর আতঙ্ককে হাতিয়ার করেছে, কিন্তু বাংলার মানুষ যেমন বামেদের হারিয়েছিল, এবার এদেরও একইভাবে বিদায় জানাবে।
প্রধানমন্ত্রী এদিন বিজেপির ‘ট্র্যাক রেকর্ড’-এর কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, মানুষ এখন আর কেবল কথায় ভোলে না, কাজ দেখে। আর উন্নয়নের ক্ষমতা একমাত্র বিজেপিরই রয়েছে। তাঁর হুঙ্কার, “বাংলার সব জায়গায় এখন পরিবর্তনের তাজা হাওয়া চলছে। মানুষের উৎসাহই বলে দিচ্ছে তৃণমূলের যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে।”
বক্তব্যের শেষে ৪ মে-র সময়সীমা বেঁধে দিয়ে মোদী বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে শুধু বিকাশ আর উন্নয়নের রাজনীতি শুরু হবে। শিল্পাঞ্চলের মানুষের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, আসানসোলকে মাফিয়া মুক্ত করতে এবং উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূলকে রাজ্য থেকে সরানোই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।