অনেকেই মনে করছেন, মোদী বরশিতে মাছ গাঁথলেও কাঁটা দিয়েই কাঁটা তুললেন মমতা। ভিনরাজ্যের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ তৃণমূল বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে তোলে, মাছের প্রসঙ্গ টেনে মোদী আসলে সেই ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছেন।

নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 9 April 2026 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিরামিষাশী রাজনীতির তকমা ঝেড়ে ফেলে ভোটমুখী বাংলায় (West Bengal Assembly Election 2026) এখন মাছে-ভাতেই বাজিমাত করতে চাইছে বিজেপি (BJP)। কখনও দিলীপ ঘোষকে মাছ বাজারে ঢুঁ মারতে দেখা যাচ্ছে, তো কখনও প্রার্থীরা মাছ হাতে প্রচার সারছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার হলদিয়ার মঞ্চ থেকে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) যখন মাছের উৎপাদন নিয়ে রাজ্যকে কাঠগড়ায় তুললেন, তখন বোঝা গেল— বিষয়টি কেবল প্রচারের কৌশল নয়, বরং আসন্ন ভোটের আগে এক গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা।
পূর্ব মেদিনীপুরের মতো উপকূলীয় জেলায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সমর্থনে প্রচার করতে গিয়ে মোদী সরাসরি নিশানা করেন তৃণমূল সরকারের (TMC) মৎস্য নীতিকে। তাঁর অভিযোগ, "মাছের উৎপাদনে এখনও পিছিয়ে রয়েছে বাংলা। অন্য রাজ্যের থেকে আমদানি করতে হয়। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে মৎস্য উৎপাদন এখন বাড়ছে। বিহারে মৎস্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকারের জন্য বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। তৃণমূল সরকারের জন্য পিএম মৎস্য সম্পদের লাভ পান না বঙ্গের মৎস্যজীবীরা। উলটে স্কিমের নাম বদলাতে ব্যস্ত রাজ্য সরকার।" প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণের লক্ষ্য যে রাজ্যের মৎস্যজীবী ভোটব্যাঙ্ক, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলের।
মোদীর সভার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ থেকে পাল্টা তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পরিসংখ্যান ও উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিতে চান, মাছের আকাল নয়, বরং বাংলায় এখন রূপোলি শস্যের জোয়ার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমরা একটা নতুন ধান উৎপাদন করছি। সেটি হল স্বর্ণধান। সেটি বিক্রিও হচ্ছে। চাষিদেরও লাভ হচ্ছে। ইলিশ মাছ যাতে বাংলায় জন্মায় ২০১৩ সালে ডায়মন্ড হারবারে গবেষণাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল। এখন অনেক ইলিশ বাংলায় জন্মায়।"
অনেকেই মনে করছেন, মোদী বরশিতে মাছ গাঁথলেও কাঁটা দিয়েই কাঁটা তুললেন মমতা। ভিনরাজ্যের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ তৃণমূল বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে তোলে, মাছের প্রসঙ্গ টেনে মোদী আসলে সেই ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছেন। অন্যদিকে, কৃষি ও মৎস্য পালনে রাজ্য যে পিছিয়ে নেই, সেই দাবি তুলেই বাঙালির ‘ঘরোয়া’ ভাবমূর্তি অটুট রাখতে সচেষ্ট মমতা।