রাজ্যের বর্তমান সরকারকে ‘নির্মম সরকার’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি বাংলার মানুষের জন্য ‘আধ ডজন’ বা ৬টি গ্যারান্টির আশ্বাস দিলেন তিনি। তবে সভার শেষে তাঁর গলায় শোনা গেল আরও কড়া সুর। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, যারা দুর্নীতি আর হিংসার সঙ্গে যুক্ত, তাদের প্রত্যেকের হিসেব নেওয়া হবে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 9 April 2026 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রচারে বাংলায় এসে ফের একবার ঝোড়ো ব্যাটিং করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে তিনি যে মেজাজে আক্রমণ শুরু করেছিলেন, বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের হলদিয়া থেকে ঠিক সেখান থেকেই যেন সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Haldia Rally)। রাজ্যের বর্তমান সরকারকে ‘নির্মম সরকার’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি বাংলার মানুষের জন্য ‘আধ ডজন’ বা ৬টি গ্যারান্টির (Narendra Modi 6 Guarantees) আশ্বাস দিলেন তিনি। তবে সভার শেষে তাঁর গলায় শোনা গেল আরও কড়া সুর। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, যারা দুর্নীতি আর হিংসার সঙ্গে যুক্ত, তাদের প্রত্যেকের হিসেব নেওয়া হবে।
এদিন হলদিয়ার জনসভায় মোদী তাঁর বক্তব্য শুরু করেন বাংলাতেই। সভার জমায়েত দেখে শুরুতেই তিনি বলেন, “আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি, বাংলার আকাশে-বাতাসে পরিবর্তনের ঝোড়ো হাওয়া বইছে। এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আসলে তৃণমূলের এই নির্মম সরকারের বিদায়ে সিলমোহর দিচ্ছে।” মোদীর মতে, গত ১৫ বছরের শাসনে পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়নের নিরিখে কয়েক দশক পিছিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। তাঁর তোপ, “এখানে উন্নয়নের বদলে শুধুই তোষণ, দুর্নীতি আর কাটমানি রাজ চলছে। তৃণমূল না মানে সংবিধান, না মানে আইন।”
বিজেপি যে সংবিধান মেনেই কাজ করবে, সেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এদিন ৬টি বড় গ্যারান্টির কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পায়ন, নারীদের নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং অনুপ্রবেশ রোখার মতো বিষয়গুলি। মোদী আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে দেবে।
মোদীর ৬ গ্যারেন্টি
তৃণমূলের ভয়ের রাজনীতি শেষ করবে বিজেপি, ভরসার সরকার তৈরি হবে বাংলায়।
বিজেপি সরকার জনতার স্বার্থে কাজ করবে। সাধারণ মানুষের কাছে দায়বদ্ধ হবে।
প্রত্যেক দুর্নীতি, মহিলাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়, প্রত্যেক ধর্ষণের ঘটনার ফাইল খুলবে।
তৃণমূল আমলে যারাই দুর্নীতি করেছে, তাদের জায়গা হবে জেলে। মন্ত্রী হোক বা অন্য কেউ, আইন সবার জন্য এক হবে। তৃণমূলের কোনও গুন্ডা পার পারবে না। জনতার টাকা তৃণমূলকে খেতে দেওয়া না।
সংবিধান মেনে শরণার্থীদের সব অধিকার মিলবে, কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে। ভারতে থাকতে দেওয়া হবে না।
বাংলার সব সরকারি শিক্ষক, সরকার কর্মীচারিরা তৃণমূলের ভয় থেকে বেরিয়ে পদ্মে ছাপ দিলে, সরকারে এসেই সপ্তম পে কমিশন চালু করা হবে।
তবে সভার শেষ লগ্নে মোদীর আক্রমণাত্মক মেজাজ এক অন্য মাত্রা নেয়। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই তৃণমূল নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে বাংলায় রাজনীতি করার চেষ্টা করছে, তার অবসান ঘটাবে বিজেপি। আমাদের লক্ষ্য - সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। কিন্তু বাংলার জন্য আমার একটা বিশেষ কথা বলার আছে। যারা বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতি আর হিংসায় জড়িয়ে রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে হিসেব দিতে হবে। কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, হলদিয়ার এই সভা থেকে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আসলে বুঝিয়ে দিলেন, আসন্ন নির্বাচনে জয়ের জন্য বিজেপি কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই ‘আধ ডজন’ গ্যারান্টি আর ‘হিসেবের’ হুঁশিয়ারি ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।