কয়লা পাচার মামলায় তদন্তে নেমে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট গ্রেফতার করল আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে। ভোটের আগে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য।

ভিনেশ চান্ডেল
শেষ আপডেট: 13 April 2026 23:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নেমে বিখ্যাত ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর (I-PAC) অন্যতম ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার দিল্লির বুক থেকে তাঁকে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের ২ তারিখে, যখন ইডি আধিকারিকরা ভিনেশের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন। সেই সময় বেশ কিছু নথিপত্র হাতে আসার পর আজ তাঁকে গ্রেফতার করা হল। সামনেই ভোট, আর তার আগে আইপ্যাক-এর মতো একটি সংস্থার বড় কর্তার গ্রেফতারিতে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে।
আগামী পরশু, অর্থাৎ বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক (I-PAC) মামলার শুনানি হতে চলেছে। ঠিক তার আগেই এই গ্রেপ্তারিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এর আগে ইডি এই সংস্থার আরও দুই বড় কর্তা—প্রতীক জৈন এবং ঋষি রায় সিংকেও তলব করেছিল। তবে সামনেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন থাকায়, ভোট মেটানোর পর হাজিরা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে তাঁরা দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন।
ঠিক কী অভিযোগ ইডির?
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি, বাংলায় কয়লা পাচারের প্রায় ২০ কোটি টাকা ‘হাওয়ালা’র মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। এই মামলার তদন্তেই গত জানুয়ারি মাসে আইপ্যাক-এর অন্যতম ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের অফিসে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানের সময় একটি অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছিল—খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
জানুয়ারির সেই ঘটনা এখন আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশিতে বাধা দিয়েছেন এবং তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা অভিযোগ, ভোটের আগে ইডি আসলে আইপ্যাক-এর অফিস থেকে নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গোপন নথিপত্র কবজা করতে চাইছে।