অভিষেক শর্মা এক বছরে সবচেয়ে বেশি ‘ডাক’-এর রেকর্ড গড়লেন, টপকে গেলেন রোহিত শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনকে। তবুও হতাশ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ শিবির।

অভিষেক শর্মা
শেষ আপডেট: 13 April 2026 22:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের আইপিএল-এ (IPL 2026) রাজস্থান রয়্যালসের মুখোমুখি হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (Sunrisers Hyderabad)। কিন্তু এই ম্যাচটি হায়দ্রাবাদের ওপেনার অভিষেক শর্মার (Abhishek Sharma) জন্য বয়ে আনল এক চরম অস্বস্তি। রাজস্থানের পেসার জফরা আর্চারের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে রবি বিষ্ণোইয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। আর এই ‘গোল্ডেন ডাক’-এর সঙ্গেই এক বছরে ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে সবচেয়ে বেশিবার শূন্য রানে আউট হওয়ার এক লজ্জার রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন এই তরুণ তুর্কি।
২০২৬ ক্যালেন্ডার বছরে এটি অভিষেকের সপ্তম ‘ডাক’। এর মাধ্যমে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের মহাতারকা রোহিত শর্মাকে টপকে গেলেন। এর আগে ২০১৮ সালে ৩২টি ইনিংসে ৬ বার শূন্য রানে আউট হয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মালিক ছিলেন রোহিত। তালিকায় ছিলেন সঞ্জু স্যামসনও, যিনি ২০২৪ সালে ৩২টি ইনিংসে ৬ বার শূন্য হাতে ফিরেছিলেন। অভিষেক মাত্র ১৮টি ইনিংসে ৭ বার শূন্য রানে আউট হয়ে সবাইকে পেছনে ফেলে দিলেন। চলতি বছরে তাঁর ফর্ম যেন অনেকটা রোলার-কোস্টারের মতো—কখনও বিধ্বংসী, আবার কখনও একেবারেই ম্লান।
চলতি আইপিএল-এ ৫টি ইনিংসে অভিষেকের সংগ্রহ ১২৯ রান। তাঁর স্ট্রাইক রেট ২১৫.৮০ হলেও গড় ২৫.৮০। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার হিসেবে তাঁর থেকে অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেখানে ৮ ইনিংসে তিনি মাত্র ১৪১ রান করতে সক্ষম হন। তবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে ভারতের জয়ের পিছনে তাঁর একটি হাফ-সেঞ্চুরির অবদান ছিল। সব মিলিয়ে এই বছর ১৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি ৪৫২ রান করেছেন। এই রান করার পথে ৫টি হাফ-সেঞ্চুরি থাকলেও ৭টি ‘ডাক’ তাঁর পারফরম্যান্সের গ্রাফকে কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ম্যাচের শুরুতে রাজস্থান রয়্যালস টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। হায়দ্রাবাদ দলে ঈশান কিষাণ অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে রাজস্থানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রিয়ান পরাগ। যাসস্বী জয়সওয়াল থেকে শুরু করে রবীন্দ্র জাদেজা এবং জফরা আর্চারের মতো তারকাদের উপস্থিতিতে ম্যাচটি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মাঠের লড়াইয়ের মাঝেই অভিষেক শর্মার এই রেকর্ড এখন ক্রিকেট মহলে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।