বরের বাড়ির লোকজনের দাবি, কনের আত্মীয়রা বাড়ির পিএনজি গ্যাস পাইপলাইনটি ভেঙে দেন যাতে গ্যাস লিক করে গোটা বাড়িতে আগুন ধরে যায়। শুধু তাই নয়, বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে তাঁদের ‘জ্যান্ত পুড়িয়ে’ মারার চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 13 April 2026 20:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সানাইয়ের সুরের রেশ কাটতে না কাটতেই বিয়ের 'রিয়েলিটি চেক' মিলল নতুন বরের। ফুলশয্যার রাতে ঘরে ঢুকতেই কনে দাবি করলেন নগদ ৯০ লক্ষ টাকা, নাহলে কাছে আসা যাবে না (Agra bride demand 90 lakh wedding night)! আর সেই দাবি না মেটানোয় বরের বাড়ির গ্যাস পাইপলাইন কেটে সপরিবারে পুড়িয়ে মারার চেষ্টাও হল। উত্তরপ্রদেশের আগ্রার জগদীশপুরা এলাকায় এই ঘটনায় এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য (agdishpura police case bride fraud)।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের সব আচার অনুষ্ঠান শেষে বর যখন ঘরে ঢোকেন, তখনই কনে সাফ জানিয়ে দেন, ঘনিষ্ঠ হতে গেলে আগে ৯০ লক্ষ টাকা দিতে হবে (UP bride cash demand on first night physical relations)। বর রাজি না হওয়ায় শুরু হয় তুমুল অশান্তি। বরের বাড়ির লোকজন কনেকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন এবং হাথরাসে বাবার বাড়িতে খবরও দেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই কনের বাড়ির আত্মীয়রা সেখানে পৌঁছে তাণ্ডব শুরু করেন বলে অভিযোগ। বরের বাড়ির লোকজনের দাবি, কনের আত্মীয়রা বাড়ির পিএনজি (PNG) গ্যাস পাইপলাইনটি ভেঙে দেন যাতে গ্যাস লিক করে গোটা বাড়িতে আগুন ধরে যায়। শুধু তাই নয়, বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে তাঁদের ‘জ্যান্ত পুড়িয়ে’ মারার চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ (PNG gas leak fire attempt bride family)। শেষে প্রতিবেশীদের সাহায্যে কোনওরকমে প্রাণ বাঁচান পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, কনে নিজেই স্বীকার করেছেন যে টাকার লোভেই তিনি এই বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় শাশুড়ির গয়না এবং বাড়ির দামী জিনিসপত্র নিয়ে তিনি বাপের বাড়ির লোকেদের সঙ্গে চম্পট দেন।
ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে চায়নি বলে দাবি বরের পরিবারের। এরপর তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে এখন জগদীশপুরা থানায় কনে, তাঁর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এই বিয়ের ঘটকালি যারা করেছিলেন, পুলিশ এখন তাঁদেরও খুঁজছে। এই ঘটনার পিছনে কোনও বড় জালিয়াতি চক্র বা ‘লুটেরা কনে’ গ্যাং রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।