রবিবার মাঝরাতে লাতুরের এক এলাকায় একটি পোড়া গাড়ি থেকে বস্তাবন্দি অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। গাড়িটি এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে প্রথমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মহারাষ্ট্র হত্যাকাণ্ড!
শেষ আপডেট: 16 December 2025 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমার টাকার জন্য নিজের মৃত্যু সাজাতে ভয়ংকর পরিকল্পনা (Fake death plot)। এক পথচারীকে রাস্তা থেকে তুলে খুন করার অভিযোগ মহারাষ্ট্রের যুবক গণেশ চাভানের বিরুদ্ধে। পুলিশ তাঁর দেহ ভেবেই তদন্ত চালায়, পরিকল্পনা প্রায় সফল হয়ে গেছিল, কিন্তু অভিযুক্তর প্রেমিকার চ্যাট সব রহস্য ফাঁস করে দেয় (Recovery agent crime)।
রবিবার মাঝরাতে লাতুরের এক এলাকায় একটি পোড়া গাড়ি থেকে বস্তাবন্দি অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। গাড়িটি এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে প্রথমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গাড়িটির মালিক সেটি তাঁর আত্মীয় পেশায় ব্যাঙ্কের রিকভারি এজেন্ট গণেশ চাভানকে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন।
পুলিশ যখন গণেশের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে, তখন জানা যায় তিনি বাড়ি ফেরেননি এবং তাঁর ফোনও বন্ধ। এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধরে নেয়, গাড়ির ভিতরে পাওয়া দেহটি গণেশ চাভানেরই। এমনকী তাঁর পরিবারও ধরে নেয়, গণেশ আর বেঁচে নেই। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই একাধিক অসঙ্গতি চোখে পড়ে পুলিশের (Maharashtra crime news)।
সোমবার থেকে গণেশের ব্যক্তিগত জীবন খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। সেখানেই জানা যায়, এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁর। তাঁকে জেরা করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। তিনি জানান, ঘটনার পরেও গণেশ অন্য একটি নম্বর থেকে তাঁকে নিয়মিত মেসেজ ও ফোন করছিলেন।
এতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, যাকে মৃত বলে ধরা হচ্ছিল, তিনি আসলে জীবিত। এরপর সেই বিকল্প ফোন নম্বর ট্র্যাক করে পুলিশ পৌঁছয় প্রথমে কোলহাপুর, পরে সিন্ধুদুর্গ জেলার বিজয়দুর্গে। সেখান থেকেই গণেশ চাভানকে গ্রেফতার করা হয়।
জেরায় গণেশ স্বীকার করে নেয় ভয়ংকর অপরাধের কথা। পুলিশ জানায়, তিনি সম্প্রতি এক কোটি টাকার জীবনবিমা করেছিলেন। সেই টাকা দিয়ে বাড়ির ঋণ শোধ করার উদ্দেশেই নিজের মৃত্যু সাজানোর পরিকল্পনা করেন তিনি (Recovery agent fake death plot)।
পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে গণেশ জানায়, শনিবার আউসার তুলজাপুর টি-জাংশনে তিনি গোবিন্দ যাদব নামের এক পথচারীকে গাড়িতে তোলেন। গোবিন্দ তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। দু’জনে এক জায়গায় খাওয়াদাওয়া করার পর আবার গাড়িতে বেরিয়ে পড়েন। গোবিন্দ ঘুমিয়ে পড়লে তাঁকে চালকের আসনে বসিয়ে সিটবেল্ট বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর প্লাস্টিক ও দেশলাই ব্যবহার করে গাড়িতে আগুন লাগানো হয়।
পরিচয় গোপন করতে এবং পরিবারকে বিভ্রান্ত করতে গোবিন্দের পাশে নিজের ব্রেসলেট ফেলে রেখে পালিয়ে যান গণেশ।
এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু হয়েছে। গণেশ চাভানের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।