মঙ্গলবার ভোর হতেই ফের নতুন করে তল্লাশি শুরু হয়েছে। গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তাবাহিনী। জঙ্গিদের খোঁজে চলছে চিরুনি তল্লাশি। তখনই ফের জঙ্গিদের গুলিতে দুই নিরাপত্তা রক্ষী গুরুতর জখম হন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 December 2025 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাতে শুরু হওয়া জঙ্গি-সেনার গুলির লড়াই অব্যাহত বিজয় দিবসের (VIjay Dibas) সকালেও। গতকাল দুপক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন এক পুলিশকর্মী। মঙ্গলবার আহত হয়েছে আরও দু'জন।
সোমবার বিকেল থেকে উধমপুর জেলার সোয়ান এলাকায় সন্ত্রাসবাদী দমনে অভিযান শুরু করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ (Jammu and Kashmir Anti Terror Operation)। অভিযানে নেতৃত্ব দেয় পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG)। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ভারতীয় সেনা (Indian Army) ও আধাসেনার জওয়ানরাও। গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, ওই এলাকায় কয়েকজন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে।
অভিযান চলাকালীন নিরাপত্তারক্ষীরা সোয়ান এলাকার একাধিক বাড়ি ও আশপাশের জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি শুরু করেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা হঠাৎই নিরাপত্তাবাহিনীর উপর গুলি চালায়। শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে গুলির লড়াই।
এই সংঘর্ষেই শহিদ হন পুলিশকর্মী আমজাদ পাঠান। তিনি পুঞ্চ জেলার মেন্ধার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রাণ দেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সোয়ান এলাকায় অন্তত তিন জন জঙ্গির উপস্থিতির আশঙ্কা করছে পুলিশ। এরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর সদস্য বলে অনুমান। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে এই সংগঠনের সক্রিয়তা আবার বেড়েছে বলেই মনে করছে গোয়েন্দারা। বিশেষ করে শ্রীনগর ও সংলগ্ন এলাকায় নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
জম্মু পুলিশের আইজি ভিম সেন তুতি জানিয়েছেন, "গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। এসওজি, সেনা এবং আধাসেনার দল যখন জঙ্গলে প্রবেশ করছিল, তখনই জঙ্গিরা গুলি চালায়। পাল্টা জবাব দেওয়া হয়।”
সোমবার সন্ধ্যায় নিরাপত্তাবাহিনী পাল্টা অভিযান (anti-terror operation) চালালেও তাতে তেমন সাফল্য মেলেনি। মঙ্গলবার ভোর হতেই ফের নতুন করে তল্লাশি শুরু হয়েছে। গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তাবাহিনী। জঙ্গিদের খোঁজে চলছে চিরুনি তল্লাশি। তখনই ফের জঙ্গিদের গুলিতে দুই নিরাপত্তা রক্ষী গুরুতর জখম হন। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।