নভেম্বর মাসে ভারতের রফতানি বিভিন্ন খাতে ভালো বৃদ্ধি পেয়েছে (fastest export growth)। ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, রত্ন ও গহনা, ওষুধ, রসায়ন, তেলজাত পণ্য এবং টেক্সটাইলের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রফতানি বেড়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 December 2025 08:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত নভেম্বরে ভারতের রফতানি তিন বছরের মধ্যে দ্রুততম হারে বেড়েছে (India exports amid US tariffs)। এই মাসে রফতানি ১৯.৪ শতাংশ বেড়ে ৩৮.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা মূলত আমেরিকা (India-US trade) ও চিনের কাছে পণ্য রফতানির জেরেই এই বৃদ্ধি। একই সময়ে আমদানি ২ শতাংশ কমে ৬২.৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি জুন মাসের পর সবচেয়ে কম হয়ে ২৪.৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য সুখবর বলেই মনে করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আমেরিকায় ভারতের রফতানি ২২.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যদিও ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপ কার্যকর ছিল (November export growth)। চিনের জন্য রফতানি এক ধাক্কায় আরও ৯০ শতাংশ বেড়ে ২.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চিনের রফতানি ভারতের (India-China trade) জন্য নভেম্বর মাসে নেদারল্যান্ডসকে পেছনে ফেলে তৃতীয় সর্বোচ্চ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। যদিও এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়কাল ধরে নেদারল্যান্ডস সামান্য এগিয়ে আছে।
বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, “শুল্ক সত্ত্বেও আমরা রফতানি ধরে রাখতে পেরেছি। আমদানিও বেড়েছে, যা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যের জন্য ভালো খবর।” ICRA-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ আদিতি নায়ার বলেন, রফতানি বাড়ার সঙ্গে আমদানির কমে যাওয়ার কারণ মূলত উৎসবের পর সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং চাহিদা কম থাকায়।
অক্টোবর মাসে রফতানি ১২% কমেছিল, যার কারণ আমেরিকার শুল্ক বৃদ্ধিকেই ধরা হয়। তবে নভেম্বর মাসে তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় শিল্পমন্ত্রী পীয়ূষ গোয়েল জানান, “নভেম্বরের রফতানি অক্টোবরের ক্ষতি পূরণ করেছে।”
নভেম্বর মাসে ভারতের রফতানি বিভিন্ন খাতে ভালো বৃদ্ধি পেয়েছে (fastest export growth)। ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, রত্ন ও গহনা, ওষুধ, রসায়ন, তেলজাত পণ্য এবং টেক্সটাইলের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রফতানি বেড়েছে। তবে চাল, তেলবীজ, প্লাস্টিক, জুট পণ্য ও কার্পেটের রফতানি কিছুটা কমেছে।
অন্যদিকে, সোনার আমদানি ৫৯ শতাংশ কমে ৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ক্রুড তেলের আমদানি ১১.৩ শতাংশ কমে ১৪ বিলিয়ন ডলারে এসেছে, আর ভেজিটেবল অয়েল আমদানি ২০ শতাংশ কমে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এছাড়াও, ইলেকট্রনিক্স আমদানি ১৬ শতাংশ বেড়ে ৮.৮ বিলিয়ন ডলারে, রূপোর আমদানি ১২৫ শতাংশ বেড়ে ১.১ বিলিয়ন ডলারে এবং মুক্তো ও অন্যান্য মূল্যবান পাথরের আমদানি ৯০ শতাংশ বেড়ে ১.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
সার্ভিস রফতানি নভেম্বরে ১১.৯ শতাংশ বেড়ে ছুঁয়েছে ৩৫.৯ বিলিয়ন ডলারের মাত্রা। সার্ভিস আমদানি ৪ শতাংশ বেড়ে ১৮ বিলিয়ন ডলারে হয়েছে। FIEO-এর প্রধান জানিয়েছেন, বাজারের বৈচিত্র্য, প্রধান খাতের স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত সহায়তা রফতানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পর্যাপ্ত লজিস্টিক সুবিধা এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের কারণে ভারতের রফতানি আগামী মাসেও ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকবে।