প্রধানমন্ত্রীর মতে, নন্দীগ্রাম যেভাবে অতীতে পরিবর্তনের সূচনা করেছিল, এবার কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রেও সেই একই ছবি দেখা যাবে। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কেন্দ্র নয়, বরং আগামী নির্বাচনে গোটা পশ্চিমবঙ্গেই ‘আসল পরিবর্তন’-এর ডাক দিয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক লড়াইকে ঢাল করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরকে নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূল জমানার সমালোচনা করে মোদী স্পষ্ট করেছেন যে, মানুষ এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 9 April 2026 12:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য রাজনীতির ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল নন্দীগ্রাম (Nandigram)। পাঁচ বছর আগের সেই স্মৃতি উসকে দিয়েই এবার খোদ কলকাতার ঘরের মাঠে পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রবিবার হলদিয়ার জনসভা থেকে নাম না করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করে তিনি সাফ জানালেন, নন্দীগ্রাম যা করে দেখিয়েছিল, এবার (West Bengal Assembly Election 2026) ভবানীপুরও সেই পথেই হাঁটবে।
পরিবর্তনের চাকা এবার ভবানীপুরে এমনটাই দাবি প্রধানমন্ত্রীর। হলদিয়ার সভা থেকে এদিন আগাগোড়াই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নের খতিয়ান দেওয়ার পাশাপাশি বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রাম পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল। এবার তার পুনরাবৃত্তি হবে ভবানীপুরে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুর যেহেতু খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র, তাই সেখানে পরিবর্তনের কথা বলে মোদী আসলে শাসকদলের মূলে আঘাত করতে চেয়েছেন। নন্দীগ্রামের লড়াই যেভাবে বাংলার রাজনীতিতে মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ভবানীপুরের ক্ষেত্রেও সেই একই ফল আশা করছে গেরুয়া শিবির।
প্রধানমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, এই পরিবর্তন কেবল একটি বা দুটি কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “কেবল ভবানীপুর নয়, এবার গোটা পশ্চিমবঙ্গেই পরিবর্তন হবে। মানুষ তৃণমূলের অপশাসন থেকে মুক্তি চায়।”
২০২০ সালের শেষদিকে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০২১-এ নন্দীগ্রাম থেকে তাঁকে প্রার্থী করে পদ্ম শিবির। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কয়েক হাজার ভোটে সেখানে তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এনিয়ে বিতর্ক হয়েছে অনেক। গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং করে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। এরপর কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতার হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে প্রচারে বেরিয়ে ফের ‘জয় বাংলা’ (Joy Bangla) স্লোগানের মুখে পড়তে হয় শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari)। তবে শুধু বিরোধীদের স্লোগান নয়, খোদ বিজেপি কর্মীদের পাল্টা স্লোগান ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। শুভেন্দুকে সামনে রেখে গেরুয়া শিবিরের একাংশ প্রচারে গলা ফাটান, ‘ভবানীপুরে জিতবে যে, মুখ্যমন্ত্রী হবে সে’।
নির্বাচনের দামামা বাজতেই প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার, নন্দীগ্রামের সেই ‘পরিবর্তন’-এর ফর্মুলা ভবানীপুর তথা বাকি বাংলায় কতটা কার্যকর হয়।