মোদীর এই ঝটিকা সফর এবং পর পর তিনটি জনসভা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, গোটা নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী একাই অন্তত ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা করেছেন। আগামীকাল শুক্রবারও ফের রাজ্যে সভা রয়েছে তাঁর।

অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 9 April 2026 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আর মাত্র ১৩ দিন বাকি। ঠিক এই মাহেন্দ্রক্ষণেই বঙ্গ জয়ের লক্ষে অলআউট আক্রমণে নামল ভারতীয় জনতা পার্টি (West Bengal BJP)। কয়েকদিন আগে কোচবিহারে সভা করে যাওয়ার পর আজ, বৃহস্পতিবার ফের বাংলায় পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। আজ একদিনেই তিনটি হেভিওয়েট জনসভা করবেন তিনি। শুধু মোদী নন, কাল থেকে আসরে নামছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। সব মিলিয়ে ছাব্বিশের লড়াইয়ে বাংলার মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে চাইছে পদ্মশিবির।
প্রধানমন্ত্রীর আজকের সফরের শুরুটা হচ্ছে শিল্পশহর হলদিয়া থেকে। নদী তীরবর্তী এই শহরে সভার পর তিনি পর্যায়ক্রমে যাবেন আসানসোল এবং বীরভূমের সিউড়িতে। মোদীর এই ঝটিকা সফর এবং পর পর তিনটি জনসভা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, গোটা নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী একাই অন্তত ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা করেছেন। আগামীকাল শুক্রবারও ফের রাজ্যে সভা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি নির্বাচনী উত্তাপ বাড়িয়ে শুক্রবার রাজ্যে জোড়া জনসভা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা এবং খড়্গপুর সদরে তাঁর সভা করার কথা রয়েছে। মোদী-শাহর এই যুগলবন্দী প্রচারে স্পষ্ট যে, বিজেপি এবার কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না।
আগামী ১১ এপ্রিলও মোদীর ব্যস্ত সূচি রয়েছে জঙ্গিপুর, কাটোয়া এবং বালুরঘাটে। সেদিন রাতেই তিনি পৌঁছবেন শিলিগুড়িতে এবং পরদিন ১২ এপ্রিল সেখানে এক বিশাল রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। অর্থাৎ টানা দু’দিন বাংলার মাটিতেই ঘাঁটি গাড়বেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে কোচবিহারের জনসভা থেকেই আক্রমণাত্মক সুরে তৃণমূলকে বিঁধেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি ছিল, ব্রিগেডের সভার পর থেকেই শাসক শিবিরের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কোচবিহারে মানুষের ভিড় দেখে তিনি রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন। অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও সরব হয়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, প্রশাসনিক মদতেই বহিরাগতদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের পর রাজ্যে আর এই ভয়ের পরিবেশ থাকবে না।
আজকের হলদিয়া, আসানসোল ও সিউড়ির সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নতুন করে কোন ইস্যু তুলে ধরেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া এবং তার পাল্টা তৃণমূলের ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্বের আবহে মোদীর আজকের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিজেপি নেতৃত্বের আশা, প্রধানমন্ত্রীর এই ঝোড়ো প্রচারই আসন্ন নির্বাচনে শাসক দলের দুর্গে বড়সড় ভাঙন ধরাবে।