তৃণমূলের এই ‘আমন্ত্রণ’-এর আড়ালে যে প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক শ্লেষ রয়েছে, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 2 April 2026 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। সেই পার্বণের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল পাত পেড়ে মাছ-মাংস খাওয়া। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly ELection 2026) মুখে সেই চিরন্তন খাদ্যাভ্যাস এখন রাজনীতির একটা মুখ্য বিষয়ও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) টানা ১৫ দিন বাংলায় থাকার পরিকল্পনাকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের (TMC) একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন তরজা। গেরুয়া শিবিরকে রীতিমতো ‘রগড়’ করে তৃণমূলের পরামর্শ, বাংলায় যখন আসছেনই, তখন মুড়িঘণ্ট, পাবদা, ইলিশ ভাপা বা চিংড়ি মালাইকারির মতো জম্পেশ সব পদ চেখে দেখতে ভুলবেন না যেন!
তৃণমূলের এই ‘আমন্ত্রণ’-এর আড়ালে যে প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক শ্লেষ রয়েছে, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। শাসকদলের প্রধান প্রচারই হল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। বিহারের বিজেপি নেতাদের একাংশের আমিষ বিরোধী মন্তব্যের রেশ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি বোঝে না, তাই তারা ক্ষমতায় এলে বাঙালির হেঁসেলে নিরামিষের খাঁড়া নামিয়ে আনবে। শাহকে দেওয়া এই খাবারের তালিকা আসলে সেই ‘খাদ্য-ভীতি’ উসকে দেওয়ারই একটা কৌশল।
.@AmitShah has announced his decision to spend 15 days in Bengal. Good. Bengal welcomes tourists with open arms. Stay for as long as you like. And do not miss out on some of our finest delicacies.
We highly recommend:
👉 Muri Ghonto
👉 Pabda Macher Jhal
👉 Ilish Bhapa
👉 Chingri… pic.twitter.com/44Nz2KSyQF— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) April 2, 2026
তবে বিজেপিও এবার দমে যাওয়ার পাত্র নয়। তৃণমূলের এই ‘নিরামিষ’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে তারা অনেকদিন আগে থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। সম্প্রতি বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে দেখা গিয়েছিল পেল্লাই কাতলা মাছ হাতে নিয়ে প্রচার করতে। জানিয়েছিলেন, “বিজেপি নিয়ে মিথ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা মাছ-মাংস সবই খাই। তৃণমূল মানুষকে এতটাই গরিব করে দিয়েছে যে লোকে এখন মাছ কেনার টাকা পাচ্ছে না।”
শুধু শারদ্বতবাবুই নন, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও একাধিকবার আশ্বস্ত করেছেন যে, বিবেকানন্দ বলে গিয়েছেন মা কালী পাঁঠা খান, তাই বাঙালির আমিষ খাবারে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না বিজেপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ভোট মানেই শুধু উন্নয়ন বা দুর্নীতি নয়, তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে ‘বাঙালিয়ানা’। আর সেই বাঙালিয়ানার শ্রেষ্ঠ পরিচয় হল তার রসনা। একদিকে তৃণমূল যেমন শাহকে ইলিশ-পাবদার তালিকায় বিদ্ধ করে তাঁদের ‘বহিরাগত’ ও ‘আমিষ-বিরোধী’ প্রমাণ করতে চাইছে, অন্যদিকে বিজেপিও আপ্রাণ বোঝাতে চাইছে যে তারা ঘোরতর আমিষভোজী এবং ‘খাস’ বাঙালি।