ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসন। এমনকি অন্তবর্তী নির্দেশ জারি করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে এও জানিয়েছে যে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। শীর্ষ আদালতের কঠোর বার্তার আধ ঘণ্টার মধ্যেই ফের মহা বিশৃঙ্খলা দেখা গেল খাস কলকাতায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 April 2026 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার রাতে কালিয়াচকে অশান্তির (Kaliachak Incident) ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) ভর্ৎসনার মুখে পড়ে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসন। এমনকি অন্তবর্তী নির্দেশ জারি করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে এও জানিয়েছে যে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। শীর্ষ আদালতের কঠোর বার্তার আধ ঘণ্টার মধ্যেই ফের মহা বিশৃঙ্খলা দেখা গেল খাস কলকাতায়। তাও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ির একেবারে কাছেই।
ভবানীপুর বিধানসভা আসনে (West Bengal Assembly Election 2026) এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করেছেন মোদী-অমিত শাহ। বিজেপির এই পদক্ষেপেই বার্তাটা স্পষ্ট। তা আরও জোরদার করতে এদিন ভবানীপুর আসনে শুভেন্দুর মনোনয়ন পেশের সময়ে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। হাজরা মোড়ে তিনি প্রথমে জনসভা করেন। তার পর রোড শো করে সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে এগিয়ে যান।
হাজরার মোড় থেকে রোড শো শুরু হয়। হুড খোলা গাড়িতে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, অমিত শাহরা। তবে ব়্যালি ৪০০-৫০০ মিটার এগোনোর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির কিছু আগেই তাঁরা ওই গাড়ি থেকে নেমে নিজেদের গাড়িতে উঠে সার্ভে বিল্ডিংয়ে যান। সূত্রের খবর, আগে থেকেই ইঙ্গিত মিলেছিল যে ওই এলাকায় ঝামেলা হতে পারে।
কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছে সেই রোড শো পৌঁছতেই তৃণমূলের কর্মীরা স্লোগান তুলতে শুরু করেন। পাল্টা স্লোগান তোলেন বিজেপি কর্মীরা। দুই শিবিরের তীব্র স্লোগান ও বাদানুবাদ শেষমেশ হাতাহাতিতে গড়ায়। ব্যাপারটা এখানেই থেমে ছিল না। সার্ভে বিল্ডিংয়ের কাছে বড় বড় চোঙ লাগিয়ে রেখেছিল তৃণমূল। সেখান থেকে তারা তারস্বরে দলীয় প্রচার সঙ্গীত বাজাতে শুরু করে। তাতেও উত্তেজনা বাড়ে। বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেও তা ঠেকানো যায়নি। বরং পুলিশের সামনেই দু’পক্ষের মারপিট শুরু হয়ে যায়।
বিজেপি নেতা তাপস রায় বলেন, “এটা পুলিশ দেখুক। নির্বাচন কমিশন দেখুক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর রোড শো। সেখানে এই অসভ্যতা। পায়ে পা দিয়ে ঝগড়ার চেষ্টা। ইচ্ছা করে অশান্তি পাকানো। এই হচ্ছে তৃণমূল। এই অনাচার এবার বাংলা থেকেই বিদেয় হবেই। গোটা ভারতে কোথাও এই নোংরামি হয় না”। অন্যদিকে তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীরা দাবি করেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। বিজেপিই উস্কানি দিয়েছে।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, যে ঘটনাটি ঘটেছে তাতে রাজ্যের ছবি আরও মলিন হল বইকি। এমনিতেই ভোটের সময়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তার মধ্যে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে এই অশান্তি বাংলা জুড়ে বৃহত্তর বার্তা দিয়ে দিল। এই পরিস্থিতির সংক্রমণ ঘটতে শুরু করলে হিংসা ও অশান্তির ঘটনা আরও ছড়াতে পারে।