বৃহস্পতিবার ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তার আগে জনসভা এবং রোড শো হয়েছে। সেখানেই উপস্থিত হয়েছিলেন অমিত শাহ। সেখান থেকেই আসন্ন ভোটের ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেলেন।

শুভেন্দু অধিকারী এবং অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 2 April 2026 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁকে জাতীয় রাজনীতির চাণক্য বলা হয়। কেন বলা হয়, সেটাই যেন ২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election 2026) আরও বেশি করে প্রমাণ করতে মরিয়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বৃহস্পতিবার ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তার আগে জনসভা এবং রোড শো হয়েছে। সেখানেই উপস্থিত হয়েছিলেন অমিত শাহ। সেখান থেকেই আসন্ন ভোটের ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেলেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই চড়ছে। সেই আবহেই ভবানীপুরে প্রচারে এসে বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, ভবানীপুরে জয়ই গোটা বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের চাবিকাঠি হতে পারে। শাহের সংযোজন, রাজ্যের যেখানেই যাচ্ছেন স্পষ্ট ইঙ্গিত পাচ্ছেন যে, মানুষ ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার হাজরার কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে অমিত শাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিজেপি এবার ১৭০-র বেশি আসন জিতবে। তাঁর কথায়, “একটা একটা করে আসন জিতে আমরা ১৭০-এ পৌঁছব। তবেই পরিবর্তন আসবে। আমার কাছে একটা শর্টকাট আছে - ভবানীপুর জিতলেই পরিবর্তন নিজে থেকেই হয়ে যাবে।”
শুভেন্দু অধিকারীকে ভবানীপুরে প্রার্থী করার পিছনেও যে বড় কৌশল ছিল সেটাও স্পষ্ট করে দেন শাহ। জানান, প্রথমে নন্দীগ্রাম থেকেই লড়াইয়ের কথা ভাবছিলেন শুভেন্দু। কিন্তু তাঁর পরামর্শেই ভবানীপুরে লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শাহর কথায়, “আমি বলেছিলাম, শুধু নন্দীগ্রাম নয়, মমতার ঘরে ঢুকে তাঁকে হারাতে হবে।”
এই প্রসঙ্গেই গত নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে শাহের খোঁচা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গড়লেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার গোটা রাজ্যে তো বটেই ভবানীপুরেও তাঁকে হারানো সম্ভব। হাজরার সভা থেকে ভবানীপুরের ভোটারদের উদ্দেশে সরাসরি আবেদন জানান তিনি। বলেন, “পুরো বাংলার পরিবর্তনের জন্য ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীকে বিপুল ভোটে জেতাতে হবে।”
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন শাহ। তিনি জানান, ভোটের সময় প্রায় ১৫ দিন পশ্চিমবঙ্গেই থাকবেন এবং বিভিন্ন জায়গায় প্রচার চালাবেন। তাঁর কথায়, এই সময় মানুষের সঙ্গে আরও বেশি করে যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া যাবে।
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে বিজেপির আক্রমণাত্মক কৌশল এবং বড় লক্ষ্যের ইঙ্গিত স্পষ্ট করে দেন অমিত শাহ। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তব ফল পায়।