বকলমে শুভেন্দুই কি তবে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী (BJP CM Candidate) পদপ্রার্থী? রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন যখন ঘোরাফেরা করছে, তখন দলের অন্দরের সমীকরণ কিন্তু অন্য কথা বলছে।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 1 April 2026 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নন্দীগ্রামের (Nandigram) পর এবার ভবানীপুর (Bhabanipur)। বুধবার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে প্রচারে বেরিয়ে ফের ‘জয় বাংলা’ (Joy Bangla) স্লোগানের মুখে পড়তে হল শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari)। তবে এদিন শুধু বিরোধীদের স্লোগান নয়, খোদ বিজেপি কর্মীদের পাল্টা স্লোগান ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুভেন্দুকে সামনে রেখে গেরুয়া শিবিরের একাংশ এদিন গলা ফাটালেন, ‘ভবানীপুরে জিতবে যে, মুখ্যমন্ত্রী হবে সে’।
বকলমে শুভেন্দুই কি তবে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী (BJP CM Candidate) পদপ্রার্থী? রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন যখন ঘোরাফেরা করছে, তখন দলের অন্দরের সমীকরণ কিন্তু অন্য কথা বলছে। বিজেপির একটি অংশ এখনই শুভেন্দুকে ‘মুখ’ হিসেবে মানতে নারাজ। বিশেষ করে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা খড়্গপুর সদরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর মনোনয়ন পেশের সময় সশরীরে উপস্থিত থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী প্রসঙ্গে দিলীপবাবু চিরাচরিত কায়দাতেই বলেন, “কে প্রার্থী হবেন, তা তো ভোটের পরে দেখা যাবে। দলের পদ্ধতি আপনারা জানেন, আগে থেকে কোনও ঘোষণা হয় না। অনেক সময় এমন কেউ মুখ্যমন্ত্রী হন যাঁর মুখ কেউ আগে থেকে চেনে না।” তাঁর স্পষ্ট কথা, দলই সব ঠিক করে। সর্বভারতীয় নেতৃত্ব কাকে কোথায় থাকতে বলবেন, সেটাই চূড়ান্ত।
বিজেপি সাধারণত নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করে না। কিন্তু বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নামায় শুভেন্দুকে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। শুভেন্দু নিজে অবশ্য ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের অবস্থানেই অনড়। তাঁর কথায়, “২৯৪ জনের মধ্যে কেউ একজন মুখ্যমন্ত্রী হবেন। নির্বাচনের পর বিধায়করা আলোচনা করবেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা মোদীজিকে সামনে রেখেই লড়ছি। কর্মীদের আবেগ থাকতেই পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেবেন মোদীজিই।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সবুজ সংকেত নিয়েই অমিত শাহ ও নিতিন নবীনরা শুভেন্দুকে ভবানীপুরে প্রার্থী করেছেন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম ঘোষণা না করলেও, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়তে নেমে শুভেন্দু নিজেকে ‘ডিফল্ট চয়েস’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। বাকিটা তো বলবে ৪ মে।