আক্রমণ শানালেন হায়দরাবাদি ‘পাগড়ি’ পরা (ওয়েইসি) নেতাদের প্রতিও। সাফ জানিয়ে দিলেন, সারা বছর ঘুমিয়ে থেকে ভোটের সময় টাকা ছড়িয়ে যারা জেতার স্বপ্ন দেখছে, মালদহের মানুষ তাদের ‘শূন্য’ করে ছাড়বে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 2 April 2026 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচনী ময়দানে (West Bengal Assembly Election 2026) তিনি যে মেপে পা ফেলছেন, বুধবার মালদহের বৈষ্ণবনগরের সভা থেকে তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর নিশানায় এদিন শুধু বিজেপি ছিল না, ছিল কংগ্রেস (Congress) ও বামেদের (CPM) ‘অশুভ আঁতাত’-ও। আক্রমণ শানালেন হায়দরাবাদি ‘পাগড়ি’ পরা (ওয়েইসি) নেতাদের প্রতিও। সাফ জানিয়ে দিলেন, সারা বছর ঘুমিয়ে থেকে ভোটের সময় টাকা ছড়িয়ে যারা জেতার স্বপ্ন দেখছে, মালদহের মানুষ তাদের ‘শূন্য’ করে ছাড়বে।
এদিন কালিয়াচকের সাম্প্রতিক অশান্তি এবং বিচারপতির ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই ঘটনার দায় ঝেড়ে ফেলে তাঁর আঙুল ছিল বিরোধীদের দিকেই। মমতা বলেন, “অভিযোগের পাহাড় থাকলেও আমরা সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করে ২২ লক্ষ মানুষের নাম তালিকায় তুলেছি। কিন্তু রায় বেরোনোর পর জাজ সাহেবকে আটকে রাখার পরিকল্পনা কাদের ছিল? যারা এই কাজ করেছে, তাদের একটিকেও ছাড়া হবে না।”
মমতা বলেন, এই গন্ডগোলের ফলে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ বা সিবিআই-এর হাতে সাধারণ ছেলেদের তুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করে দেওয়া হয়েছে। প্রকারান্তরে তিনি বুঝিয়ে দেন, এই বিশৃঙ্খলা আসলে বিজেপিরই সাজানো চিত্রনাট্য।
প্রশাসনের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ যে বর্তমানে শিথিল, সে কথাও এদিন অকপটে স্বীকার করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের মুখে নির্বাচন কমিশন ‘উকুন বাছার মতো’ বেছে বেছে অফিসারদের বদলে দিচ্ছে। তাঁর কথায়, “মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে ডিজি— কাউকেই আমার সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এখন আমার হাতে নেই। বিহারের লোককে এনে ডিএম করা হচ্ছে, আর বাংলার দক্ষ অফিসারদের তামিলনাড়ু পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “ভোট এলেই কংগ্রেস ময়দানে নামে। সারা বছর ওরা ঘুমোয়। মালদহের দুটো সিটে বিজেপি আর কংগ্রেস ভাগাভাগি করে চলে। যদি ভাবেন ভোট কাটাকাটি করে বিজেপিকে সুবিধা করে দেবেন, তবে আগামী দিনে আপনাদের ঠিকানা, অধিকার— কিছুই থাকবে না।” তাঁর নিশানায় ছিল মিম-এর মতো দলও, যাঁদের তিনি ‘বিজেপির টাকা খেয়ে ভোট ভাগ করার কারিগর’ বলে দেগে দিয়েছেন।
উন্নয়নের প্রশ্নে মালদহবাসীকে আশ্বস্ত করে মমতা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে যাবতীয় উন্নয়নের কাজ বন্ধ করে মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এবার আর সেই কারসাজি চলবে না। সভায় তাঁর ডাক— “এবার খেলা হবে দুরন্ত খেলা। বাংলা থেকে বিজেপি, কংগ্রেস আর গদ্দারদের শূন্য করার খেলা।”