বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এক সারিতে রেখে মমতা এ দিন অভিযোগ করেন যে, পরিকল্পিতভাবে বাংলার প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 9 April 2026 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬-এর ভোটে (West Bengal Assembly Election 2026) বিজেপিকে রুখতে ‘বাঙালির অস্তিত্ব’ এবং ‘সংবিধান রক্ষার’ লড়াইকে মূল অস্ত্র করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এ বিষয় নতুন নয়। একই অস্ত্রে শান দিয়ে বৃহস্পতিবার মিনাখাঁর জনসভায় দাঁড়িয়ে দিল্লির শাসনকে আক্রমণ করে তিনি জানান, একটা ভুল ভোটে সব হারাবে বাংলা।
মিনাখাঁর জনসভায় আসা মহিলাদের উদ্দেশে মমতা বলেন, “আগামী দিন মানুষের অস্তিত্ব থাকবে কিনা, বাংলার অস্তিত্ব থাকবে কিনা, হিন্দু-মুসলিমদের ভাষা থাকবে কিনা, আদিবাসী-মতুয়া-নমঃশূদ্র সকল মানুষের অস্তিত্ব থাকবে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ যাতে ভোট দিতে না পারে সেটাই চাও বিজেপি। মানুষ তোমাদের ক্ষমা করবে না।”
বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী জানান, এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে তিনি ফের সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যাবেন। তাঁর আশঙ্কা, নাম হয়তো উঠবে, কিন্তু তা ভোটের পরে উঠলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যাবে না— আর বিজেপি সেটাই চাইছে।
বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এক সারিতে রেখে মমতা এ দিন অভিযোগ করেন যে, পরিকল্পিতভাবে বাংলার প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। তাঁর কথায়, "বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধান ধ্বংস করে দিচ্ছে। ৯০ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছ, মনে রেখো তাতেও আমরা জিতব। পুরো গণতন্ত্রকে চৈত্র মাসের সেলের মতো বিক্রি করে দিয়েছ। এভরি অ্যাকশন হ্যাজ ইটস রিঅ্যাকশন।” তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলাকে অসম্মান করে বাংলার মানুষের ভোট চাওয়া যায় না।
ভোটের আগে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা নিয়ে এ দিনও সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, মানুষকে আটকে দিয়ে ভোট কম করার কৌশল শেখাচ্ছে বিজেপি। একই সঙ্গে ইভিএম নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “জেনে রাখবেন, কোটি কোটি টাকা দিয়ে প্রচার চলছে। একটা ভোট যদি বিজেপিকে ভুল করেও দিয়েছেন, তা হলে আপনার অস্তিত্ব, ঠিকানা, সম্মান, জাতি, বর্ণ, বাংলা ভাষা চলে যাবে। বর্ডার এরিয়াতে অনেক ফোর্স আসছে। বিজেপি শেখাচ্ছে যাতে কেউ ভোট দিতে না পারে, তাঁদের আটকে দাও। ইভিএম মেশিন খারাপ হয়ে গেলে সেই মেশিনে ভোট দেবেন না।”
উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি মিনাখাঁর মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বুঝিয়ে দেন, এই ভোট কেবল সরকার গড়ার নয়, বরং বাঙালির ‘ঠিকানা’ বাঁচানোর লড়াই।