২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর রাজ্যজুড়ে যে অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছিল, তা এখনও বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয়। বিজেপির অভিযোগ, সে সময় হাজার হাজার দলীয় কর্মীকে মারধর করা হয়েছিল, অনেকে ঘরছাড়া হয়েছিলেন, এমনকি খুনের অভিযোগও উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 13 April 2026 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) ভোটগ্রহণ পর্ব এখনও শুরুই হয়নি, কিন্তু তার আগেই ৪ মে-র ফলপ্রকাশের দিন নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে শাসক-বিরোধী প্রবল টক্কর। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) আত্মবিশ্বাসের সুরে দাবি করেছেন, ওইদিন রাজ্যজুড়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ‘ডিজে’ বাজিয়ে জয়োল্লাস করবে জোড়াফুল শিবির। তবে অভিষেকের এই মন্তব্যকে নিছক জয়োল্লাস হিসেবে দেখছে না গেরুয়া শিবির। বরং একে ভোট-পরবর্তী হিংসার পরোক্ষ হুঁশিয়ারি হিসেবেই মনে করছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর সেই সূত্রেই সোমবার কড়া ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর রাজ্যজুড়ে যে অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছিল, তা এখনও বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয়। বিজেপির অভিযোগ, সে সময় হাজার হাজার দলীয় কর্মীকে মারধর করা হয়েছিল, অনেকে ঘরছাড়া হয়েছিলেন, এমনকি খুনের অভিযোগও উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, অভিষেকের ‘ডিজে’ বাজানোর মন্তব্য আসলে সেই একুশের কায়দাতেই নতুন করে হিংসা ছড়ানোর ইঙ্গিত।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, এবার আর বিজেপিকে অপ্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া যাবে না। তাঁর কথায়, “একুশের ভোটের পর আমরা তৈরি ছিলাম না। কিন্তু তখনকার সেই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়েছে। একটা কথা তৃণমূলের নেতারা জেনে রাখুন, এবার আর কোনও কিছুই একতরফা হবে না।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যে কার্যত স্পষ্ট যে, নির্বাচনের ফল যেদিকেই যাক না কেন, পাল্টা প্রতিরোধের জন্য তৈরি থাকছে পদ্ম শিবির।
নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানোর বিষয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা এদিন ফের মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, “২০২১ আর ২০২৪ সালের ভোটের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। কীভাবে বুথ দখল বা ভোট চুরি আটকাতে হয় এবং ভোটের পর কর্মীদের ওপর আক্রমণ রুখতে হয়, তা আমাদের জানা আছে। চব্বিশের লোকসভা ভোটের পরও আমরা বড় কোনও অশান্তি হতে দিইনি, এবারও দেব না।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিষেকের ‘ডিজে’ মন্তব্য যেমন তৃণমূলের প্রবল আত্মবিশ্বাসকে তুলে ধরছে, তেমনই শুভেন্দুর ‘একতরফা হবে না’ হুঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে এক চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির। ৪ মে গণনাকেন্দ্র থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়ে মোড়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তাই নিয়েই এখন দড়ি টানাটানি তুঙ্গে। একদিকে তৃণমূলের জয়ের হ্যাটট্রিকের আশা, আর অন্যদিকে বিজেপির প্রতিরোধের ডাক - সব মিলিয়ে ছাব্বিশের ভোটের ফলপ্রকাশের দিনটি যে যথেষ্ট উদ্বেগজনক হতে চলেছে, তা দুই নেতার বয়ানেই স্পষ্ট।