ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে বেহালায় প্রচারে এসে ফের একবার ঝাঁজালো মেজাজে ধরা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর শিকদারের সমর্থনে এক জনসভায় যোগ দিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 8 April 2026 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর তারপরই এলাকাবাসীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, 'আমি আবার আসব।' মমতার এই মন্তব্য যে সত্যি হবে না, তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ওই কেন্দ্রেরই বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁরা পাল্টা খোঁচা - মমতার আর ফেরা হবে না। এটাই তাঁর শেষ মনোনয়ন।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে বেহালায় প্রচারে এসে ফের একবার ঝাঁজালো মেজাজে ধরা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর শিকদারের সমর্থনে এক জনসভায় যোগ দিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন তিনি। তাঁর সাফ দাবি, নন্দীগ্রামের পর এবার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও হারের মুখ দেখতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী। শুভেন্দুর খোঁচা, “উনি নন্দীগ্রামে হেরেছেন, কিছুদিন পর আমার কাছে ভবানীপুরেও হারবেন।”
এদিন বেহালার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে ব্যঙ্গ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। তিনি বলেন, “এক ঝুড়ি লোক নিয়ে তো মনোনয়ন জমা দিতে গেছিলেন। আবার বলে এসেছেন যে, আবার আসবেন। কিন্তু ওনার আর ফেরা হবে না।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যে কার্যত স্পষ্ট যে, ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রীর জয় নিয়ে বিজেপি এবার কতটা আত্মবিশ্বাসী।
তবে রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি এদিনের সভায় জাতীয়তাবাদের তাসও খেলেছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর গুরুতর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল লক্ষ্য হল ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বা গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরি করা। এই প্রসঙ্গে তাঁর হুঙ্কার, “বিজেপির কাছে আগে রাষ্ট্র, পরে দল। আমরা থাকতে মমতার এই স্বপ্ন কোনও দিন পূরণ হতে দেব না।”
বেহালা পূর্বের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর শিকদারের ভাবমূর্তি তুলে ধরে শুভেন্দু জানান, শঙ্করবাবু অত্যন্ত সৎ, আদর্শবান এবং নিষ্ঠাবান একজন কর্মী। প্রার্থীর ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, “ওঁর বাড়িতে বিশ্বকর্মা পুজোয় আমি একাধিকবার এসেছি। উনি সব সময় দলীয় কর্মীদের পাশে থেকেছেন। আমি আশা করব আপনারা এই সৎ মানুষকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে এই এলাকাকে চোরেদের হাত থেকে রক্ষা করবেন।”
বেহালার স্থানীয় দুর্নীতি ও প্রোমোটারি রাজ নিয়েও এদিন সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। এলাকার কাউন্সিলর ও পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে পুকুর বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এখানকার কাউন্সিলর প্রোমোটারকে বাড়িতে ডেকে বলেছিলেন, ঘনা ১৫০ নেয়, আমাকে ৫০ দিবি। আমি সেই ভিডিও ছেড়ে দিয়েছিলাম। কাউন্সিলর মানহানির মামলার ভয় দেখিয়েছিলেন, আমি দু’বছর ধরে অপেক্ষা করছি, ওঁর দেখা নেই।”
নারদ-সারদা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হুঁশিয়ারি মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মোদীজি বলে গেছেন, সবার হিসেব হবে। চুরি-দুর্নীতি থেকে শুরু করে বিজেপি কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া - সব কিছুর হিসাব হবে আগামী ৪ তারিখের পরে।”
বেহালার মাটি থেকে শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক ভাষণ আসন্ন নির্বাচনের আগে ওই এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।