চাকদহের জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। ভোটার তালিকায় প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়া নিয়ে কেন্দ্রের শাসক দলকে নিশানা করে তিনি বলেন, 'বিজেপি কাউকে দিচ্ছে ক্যাশ, কাউকে গ্যাস, কিন্তু ভোট ফুরোলেই সব উধাও হয়ে যাবে।'

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 7 April 2026 18:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) মধ্যেই বাংলার রাজনীতির পারদ চড়ল আরও কয়েক ধাপ। সোমবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনের (ECI) পক্ষ থেকে ভোটার তালিকার যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তাকে হাতিয়ার করেই মঙ্গলবার চাকদহের জনসভা থেকে বিজেপিকে তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। মমতার ভাষায়, “উকুন বাছার মতো করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।”
এদিন চাকদহের জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। ভোটার তালিকায় প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়া নিয়ে কেন্দ্রের শাসক দলকে নিশানা করে তিনি বলেন, 'বিজেপি কাউকে দিচ্ছে ক্যাশ, কাউকে গ্যাস, কিন্তু ভোট ফুরোলেই সব উধাও হয়ে যাবে।'
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এসআইআরের নাম করে আসলে এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ-সহ একাধিক জেলায় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মতুয়া, রাজবংশী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশানা করা হচ্ছে বলে তিনি সরব হন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ৩২ লক্ষ মানুষের নাম নতুন করে তালিকায় উঠেছে ঠিকই, কিন্তু যাদের নাম এখনও ওঠেনি বা কেটে দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য লড়াই জারি থাকবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “বাকি নামগুলো যাতে তালিকায় ফিরে আসে, তার জন্য আমরা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হব।” তাঁর দাবি, বিজেপি বাংলার অফিসারদের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে বহিরাগতদের এনে রাজ্যের ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বিজেপি ভোট লুটের পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিবেচনাধীন থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েছে। ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম অবশ্য নতুন করে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম তালিকায় প্রায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার নাম কাটা গিয়েছিল। সব মিলিয়ে রাজ্যে ভোটার হ্রাসের এই পরিসংখ্যান ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়।
অন্যদিকে, এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর-কে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে জরুরি বলে মনে করছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার বাংলায় অনুপ্রবেশের ইস্যুতে সরব হয়েছেন। বিজেপির বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তার খাতিরেই ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া প্রয়োজন। বিজেপির এই 'অনুপ্রবেশ' তত্ত্বের পাল্টায় তৃণমূলের হাতিয়ার এখন 'বাঙালি বঞ্চনা'। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এটি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকাঠামোয় আঘাত হেনে সংখ্যালঘু ও বাঙালিদের কোণঠাসা করার চেষ্টা।
এদিনের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডাক দিয়েছেন বিজেপিকে বাংলার মাটিতে শূন্য করার। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “এই ভোট নিজের মাটি এবং অধিকার বাঁচাবার লড়াই। কোনও অন্য দলকে ভোট দিয়ে বিজেপির হাত শক্ত করবেন না।” ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল যে এবার বড়সড় আন্দোলনের পথে হাঁটবে, চাকদহের সভা থেকেই তার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন নেত্রী।