দিন কয়েক আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ হুঙ্কার দিয়েছিলেন ‘কলকাতা পর্যন্ত হামলার’। সেই হুমকির পাল্টা জবাব কেন দিচ্ছে না কেন্দ্র, তা নিয়ে গত দু’দিন ধরে সরব ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

রাজনাথ সিং ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 7 April 2026 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ হুঙ্কার দিয়েছিলেন ‘কলকাতা পর্যন্ত হামলার’। সেই হুমকির পাল্টা জবাব কেন দিচ্ছে না কেন্দ্র, তা নিয়ে গত দু’দিন ধরে সরব ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে ভোটপ্রচারে এসে সেই স্তব্ধতা ভাঙলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “৫৫ বছর আগের কথা ওদের মনে রাখা উচিত। কী ভাবে দেশটা দু’টুকরো হয়েছিল! ফের দুঃসাহস দেখালে পরিণাম কী হবে, সেটা ওরাই বুঝবে।”
ঘটনার সূত্রপাত কেরলে রাজনাথের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে পাক মন্ত্রী আসিফ দাবি করেন, ভারত ফের হামলার ছক কষছে এবং সেই সূত্রেই তিনি কলকাতার প্রসঙ্গ টানেন। এই নিয়ে সোমবার নদিয়ার সভা থেকে সরব হন মমতা। তাঁর প্রশ্ন ছিল, “কেন প্রধানমন্ত্রী চুপ? কে বলিয়েছে ওকে দিয়ে?” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় এলে পাক মন্ত্রীকে ‘ঘরে ঢুকে’ মারা হবে।
মঙ্গলবার ব্যারাকপুরের জনসভায় অবশ্য রাজনাথের মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূল নেত্রী। পাক হুমকি নিয়ে সরাসরি মঞ্চ থেকে কিছু না বললেও, পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি কড়া জবাব দেন। তবে জনসভার বক্তৃতায় মমতাকে বিঁধে তিনি বলেন, “গতবার বাংলা নিজের মেয়েকে চেয়েছিল, মানুষ আপনাকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু আপনি মানুষের পিঠে ছুরি মেরেছেন।” বেকারত্ব, শিল্পহীনতা এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিঁধে রাজনাথের দাবি, বাংলার যুবসমাজ কাজের খোঁজে ভিন্ রাজ্যে পরিযায়ী হতে বাধ্য হচ্ছে।
এ দিনও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে হাতিয়ার করেছেন রাজনাথ। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। পাল্টা হিসেবে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর যৌক্তিকতাও করেছেন তিনি। যদিও এই প্রক্রিয়ায় ঠিক কত জন অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ গিয়েছে, তার স্পষ্ট হিসেব এখনও অধরা।
বঙ্গ রাজনীতিতে পাকিস্তান ইস্যু বা জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা নতুন নয়। কিন্তু কলকাতাকে কেন্দ্র করে পাক মন্ত্রীর হুমকি এবং তাকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূলের এই চাপানউতর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।